পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৫৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ぬ8b/ সংকলন অনেকে দুঃখ ভোগ করিয়া থাকে, অথবা শকুন্তলার তাৎপর্য এই যে, উপযুক্ত অবসরে দীপরষের চিত্তে পরস্পরের প্রতি প্রেমের সঞ্চার হওয়া অসম্ভব নহে, তবে সেটাকে একটা নতন শিক্ষা বা বিশেষ বাতা বলা যায় না।’ স্রোতস্বিনী কিঞ্চিৎ ইতস্তত করিয়া কহিল, ‘আমার তো মনে হয়, সেইসকল সাধারণ কথাই কবিতার কথা। রাজগহে জন্মগ্রহণ করিয়াও, সবপ্রকার সখের সম্ভাবনা সত্ত্বেও, আমৃত্যুকাল অসীম দঃখ রাম ও সীতাকে সংকট হইতে সংকটান্তরে ব্যাধের ন্যায় অনুসরণ করিয়া ফিরিয়াছে; সংসারের এই অত্যন্ত সম্ভবপর, মানবাদস্টের এই অত্যন্ত পরাতন দুঃখকাহিনীতেই পাঠকের চিত্ত আকৃষ্ট এবং আদ্র হইয়াছে। শকুন্তলার প্রেমদশ্যের মধ্যে বাসতবিকই কোনো নতন শিক্ষা বা বিশেষ বাতা নাই, কেবল এই নিরতিশয় প্রাচীন এবং সাধারণ কথাটি আছে যে, শুভ অথবা অশুভ অবসরে প্রেম অলক্ষিতে অনিবাৰ্যবেগে আসিয়া দঢ়বন্ধনে সীপরষের হৃদয় এক করিয়া দেয়। এই অত্যন্ত সাধারণ কথা থাকাতেই সবসাধারণে উহার রসভোগ করিয়া আসিতেছে। কেহ কেহ বলিতে পারেন, দ্রৌপদীর বসত্রহরণের বিশেষ অথ* এই যে, মৃত্যু এই জীবজন্তুতরলতাতৃণাচ্ছাদিত বসুমতীর বস্ত্র আকষৰ্ণ করিতেছে, কিন্তু বিধাতার আশীবাদে কোনোকালে তাহার বসনাঞ্চলের অন্ত হইতেছে না—চিরদিনই সে প্রাণময় সৌন্দর্যময় নববসে ভূষিত থাকিতেছে। কিন্তু সভাপবে যেখানে আমাদের হৃৎপিণ্ডের রক্ত তরঙ্গিত হইয়া উঠিয়াছিল এবং অবশেষে সংকটাপন্ন ভক্তের প্রতি দেবতার কৃপায় দই চক্ষ আশ্রজেলে পলাবিত হইয়াছিল, সে কি এই নতন এবং বিশেষ অর্থ গ্রহণ করিয়া। না, অত্যাচারপীড়িত রমণীর লজা ও সেই লজানিবারণ-নামক অত্যন্ত সাধারণ স্বাভাবিক এবং পরাতন কথায় ? কচ-দেবযানী-সংবাদেও মানবহৃদয়ের এক অতি চিরন্তন এবং সাধারণ বিষাদকাহিনী বিবত আছে, সেটাকে যাহারা অকিঞ্চিৎকর জ্ঞান করেন এবং বিশেষ তত্ত্বকেই প্রাধান্য দেন তাঁহারা কাব্যরসের অধিকারী নহেন। সমীর হাসিয়া আমাকে সম্বোধন করিয়া কহিলেন, ‘শ্রীমতী স্রোতস্বিনী আমাদিগকে কাব্যরসের অধিকারসীমা হইতে একেবারে নিবাসিত করিয়া দিলেন, এক্ষণে স্বয়ং কবি কী বিচার করেন একবার শনা যাক। স্রোতস্বিনী অত্যন্ত লজিত ও অনন্তপ্ত হইয়া বারংবার এই অপবাদের প্রতিবাদ করিলেন। আমি কহিলাম, এই পর্যন্ত বলিতে পারি, যখন কবিতাটা লিখিতে বসিয়াছিলাম তখন কোনো অথাই মাথায় ছিল না, তোমাদের কল্যাণে এখন