পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৫৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কাব্যের তাৎপর্য ఏ8షి দেখিতেছি লেখাটা বড়ো নিরর্থক হয় নাই, অর্থ অভিধানে কুলাইয়া উঠিতেছে না। কাব্যের একটা গণ এই যে, কবির রচনাশক্তি পাঠকের রচনাশক্তি উদ্রেক করিয়া দেয়; তখন সব সব প্রকৃতি অনুসারে কেহ বা সৌন্দয, কেহ-বা নীতি, কেহ-বা তত্ত্ব সজেন করিতে থাকেন। এ যেন আতশবাজিতে আগন ধরাইয়া দেওয়া-কাব্য সেই অনিশিখা, পাঠকদের মন ভিন্ন ভিন্ন প্রকারের আতশবাজি। আগন ধরিবামার কেহ বা হাউইয়ের মতো একেবারে আকাশে উড়িয়া যায়, কেহ-বা তুবড়ির মতো উচ্ছসিত হইয়া উঠে, কেহ-বা বোমার মতো আওয়াজ করিতে থাকে। তথাপি মোটের উপর শ্রীমতী স্রোতস্বিনীর সহিত আমার মতবিরোধ দেখিতেছি না। অনেকে বলেন, আঠই ফলের প্রধান অংশ এবং বৈজ্ঞানিক যুক্তির বারা তাহার প্রমাণ করাও যায়। কিন্তু তথাপি অনেক রসজ্ঞ ব্যক্তি ফলের শস্যটি খাইয়া তাহার অঠি ফেলিয়া দেন। তেমনি কোনো কাব্যের মধ্যে যদি-বা কোনো বিশেষ শিক্ষা থাকে, তথাপি কাব্যরসজ্ঞ ব্যক্তি তাহার রসপণ কাব্যাংশটুকু লইয়া শিক্ষাংশটুকু ফেলিয়া দিলে কেহ তাঁহাকে দোষ দিতে পারে না। কিন্তু যাহারা আগ্ৰহসহকারে কেবল ঐ শিক্ষাংশটুকুই বাহির করিতে চাহেন, আশীবাদ করি তাঁহারাও সফল হউন এবং সাথে থাকুন। আনন্দ কাহাকেও বলপর্বক দেওয়া যায় না। কুসভফল হইতে কেহ-বা তাহার রঙ বাহির করে, কেহ-বা তৈলের জন্য তাহার বীজ বাহির করে, কেহ বা মাধনেয়ে তাহার শোভা দেখে। কাব্য হইতে কেহ-বা ইতিহাস আকর্ষণ করেন, কেহ-বা দশন উৎপাটন করেন, কেহবা নীতি, কেহ-বা বিষয়জ্ঞান উদঘাটন করিয়া থাকেন, আবার কেহ-বা কাব্য হইতে কাব্য ছাড়া আর কিছই বাহির করিতে পারেন না। যিনি যাহা পাইলেন তাহাই লইয়া সন্তুষ্টচিত্তে ঘরে ফিরিতে পারেন, কাহারো সহিত বিরোধের আবশ্যক দেখি না—বিরোধে ফলও নাই। আগ্রহায়ণ ১৩০১