পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ఏ0 সংকলন আমাদের ব্ৰতপাবণগুলি বাংলার এক অংশে যেরপে, অন্য অংশে সেরাপ নহে। স্থানভেদে সামাজিক প্রথার অনেক বিভিন্নতা আছে। এ ছাড়া গ্রাম্য ছড়া, ছেলে ভুলাইবার ছড়া, প্রচলিত গান প্রভৃতির মধ্যে অনেক জ্ঞাতব্য বিষয় নিহিত আছে। বস্তুত দেশবাসীর পক্ষে দেশের কোনো বক্তান্তই তুচ্ছ নহে, এই কথা মনে রাখাই যথাথ শিক্ষার একটি প্রধান অঙ্গ। আমাদের প্রথম বয়সে ভারতমাতা, ভারতলক্ষী প্রভৃতি শব্দগুলি বহদায়তন লাভ করিয়া আমাদের কল্পনাকে আচ্ছন্ন করিয়াছিল। কিন্তু মাতা যে কোথায় প্রত্যক্ষ আছেন, তাহা কখনো সপস্ট করিয়া ভাবি নাই—লক্ষয়ী দরে থাকুন, তাঁহার পেচকটাকে পর্যন্ত কখনো চক্ষে দেখি নাই। আমরা বায়রনের কাব্য পড়িয়াছিলাম, গারিবলডির জীবনী আলোচনা করিয়াছিলাম এবং প্যাট্রিয়টিজমের ভাবরস-সম্বেভাগের নেশায় একেবারে তলাইয়া গিয়াছিলাম। মাতালের পক্ষে মদ্য যেরপে খাদ্যের অপেক্ষা প্রিয় হয়, আমাদের পক্ষেও দেশহিতৈষণার নেশা স্বয়ং দেশের চেয়েও বড়ো হইয়া উঠিয়াছিল। যে দেশ প্রত্যক্ষ তাহার ভাষাকে বিস্মত হইয়া, তাহার ইতিহাসকে অপমান করিয়া, তাহার সখেদঃখকে নিজের জীবনযাত্রা হইতে বহন্দরে রাখিয়াও আমরা দেশহিতৈষী হইতেছিলাম। ‘আইডিয়া যত বড়োই হউক তাহাকে উপলব্ধি করিতে হইলে একটা নিদিষ্ট সীমাবদ্ধ জায়গায় প্রথম হস্তক্ষেপ করিতে হইবে। তাহা ক্ষুদ্র হউক, দীন হউক, তাহাকে লঙ্ঘন করিলে চলিবে না। দরকে নিকট করিবার একমাত্র উপায় নিকট হইতে সেই দুরে যাওয়া। ভারতমাতা যে হিমালয়ের দাগম চড়ার উপরে শিলাসনে বসিয়া কেবলই কর্ণসরে বীণা বাজাইতেছেন, এ কথা ধ্যান করা নেশা করা মাত্র-কিন্তু ভারতমাতা যে আমাদের পল্লীতেই পঙ্কশেষ পানাপুকুরের ধারে ম্যালেরিয়াজীণ পলীহারোগীকে কোলে লইয়া তাহার পথ্যের জন্য আপন শুন্যভাণ্ডারের দিকে হতাশদটিতে চাহিয়া আছেন, ইহা দেখাই যথাথ দেখা। যে ভারতমাতা ব্যাস-বশিষ্ঠ-বিশ্বামিত্রের তপোবনে শমীবক্ষ মলে আলবালে জলসেচন করিয়া বেড়াইতেছেন তাঁহাকে করজোড়ে প্রণাম করিলেই যথেষ্ট, কিন্তু আমাদের ঘরের পাশে যে জীণচীরধারিণী ভারতমাতা ছেলেটাকে ইংরেজিবিদ্যালয়ে শিখাইয়া কেরানিগিরির বিড়বনার মধ্যে সপ্রতিষ্ঠিত করিয়া দিবার জন্য অধ্যাশনে পরের পাকশালে রাধিয়া বেড়াইতেছেন, তাঁহাকে তো অমন কেবলমাত্র প্রণাম করিয়া সারা যায় না। আজ তোমাদের তারণ্যের মধ্যে আমার অবারিত প্রবেশাধিকার নাই, তোমাদের আশা আকাঙ্ক্ষা আদশ যে কী তাহা পল্টরপে অনুভব করা আজ