পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৬০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


S68 সংকলন বোম কহিল, যেমন বরফের উপর প্রথম রৌদ্র পড়িলে তাহা ঝিকমিক করিতে থাকে এবং রৌদ্রের তাপ বাড়িয়া উঠিলে তাহা গলিয়া পড়ে। তুমি কতকগলি প্রহসন ও ট্র্যাজেডির নাম করো, আমি তাহা হইতে প্রমাণ করিয়া मिळउछ्-ि' এমন সময় দীপিত ও স্রোতস্বিনী হাসিতে হাসিতে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। দীপ্তি কহিলেন, তোমরা কী প্রমাণ করিবার জন্য উদ্যত হইয়াছ। ক্ষিতি কহিল, আমরা প্রমাণ করিতেছিলাম যে, তোমরা এতক্ষণ বিনা কারণে হাসিতেছিলে।’ শনিয়া দীপ্তি স্রোতস্বিনীর মাখের দিকে চাহিলেন, স্রোতস্বিনী দীপ্তির মাখের দিকে চাহিলেন, এবং উভয়ে পনরায় কলকণ্ঠে হাসিয়া উঠিলেন। বোম কহিল, আমি প্রমাণ করিতে যাইতেছিলাম যে, কমেডিতে পরের জলপ পীড়া দেখিয়া আমরা হাসি এবং ট্র্যাজেড়িতে পরের অধিক পীড়া দেখিয়া আমরা কাদি। দীতি ও স্রোতস্বিনীর সমিষ্ট সম্মিলিত হাস্যরবে পনশ্চ গহ কজিত হইয়া উঠিল, এবং অনৰ্থক হাস্য-উদ্রেকের জন্য উভয়ে উভয়কে দোষী করিয়া, পরস্পরকে তজনপবেক হাসিতে হাসিতে সলজভাবে দই সখী গহ হইতে প্রস্থান করিলেন। পর্ষ সভ্যগণ এই অকারণ হাসোচ্ছাসদশ্যে স্মিতমখে অবাক হইয়া রহিল। কেবল সমীর কহিল, ব্যোম, বেলা অনেক হইয়াছে, এখন তোমার ঐ বিচিত্রবণের নাগপাশবন্ধনটা খলিয়া ফেলিলে বাস্থ্যহানির সম্ভাবনা দেখি না। ক্ষিতি বোমের লাঠিগাছটি তুলিয়া অনেকক্ষণ মনোযোগের সহিত নিরীক্ষণ করিয়া কহিল, ব্যোম, তোমার এই গদাখানি কি কমেডির বিষয়, না ট্র্যাজেডির উপকরণ। পৌষ ১৩০১