পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৬৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কৌতুকহাস্যের মাত্রা ఏ&సి সহিত ফলের, ইচ্ছার সহিত অবস্থার অসংগতি প্রকাশ পাইতেছে। অতএব পষ্ট দেখা যাইতেছে, অসংগতি দই শ্রেণীর আছে; একটা হাস্যজনক, আরএকটা দুঃখজনক। বিরক্তিজনক, বিস্ময়জনক, রোষজনককেও আমরা শেষ শ্রেণীতে ফেলিতেছি। অর্থাৎ, অসংগতি যখন আমাদের মনের অনতিগভীর স্তরে আঘাত করে তখনই আমাদের কৌতুক বোধ হয়, গভীরতর স্তরে আঘাত করিলে আমাদের দুঃখ বোধ হয়। শিকারী যখন অনেকক্ষণ অনেক তাক করিয়া হংসশ্রমে একটা দরপথ শেবত পদার্থের প্রতি গলি বর্ষণ করে এবং ছটিয়া কাছে গিয়া দেখে সেটা ছিন্ন বস্ত্রখন্ড, তখন তাহার সেই নৈরাশ্যে আমাদের হাসি পায় ; কিন্তু কোনো লোক যাহাকে আপন জীবনের পরম পদার্থ মনে করিয়া একাগ্রচিত্তে একান্ত চেষ্টায় আজন্মকাল তাহার অনুসরণ করিয়াছে এবং অবশেষে সিন্ধকাম হইয়া তাহাকে হাতে লইয়া দেখিয়াছে, সে তুচ্ছ প্রবঞ্চনামাত্র, তখন তাহার সেই নৈরাশ্যে অন্তঃকরণ ব্যথিত হয় । পথল কথাটা এই যে, অসংগতির তার অল্পে অল্পে চড়াইতে চড়াইতে বিস্ময় ক্ৰমে হাস্যে এবং হাস্য কমে আশ্রজেলে পরিণত হইতে থাকে। ফালগুন ১৩০১