পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৬৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


নববষা ১৬১ চিরকালের পথিবী, আমার কাছে খব হইয়া গেছে। আমি তাহাকে যতটুকু পাইয়াছি তাহাকে ততটুকু বলিয়াই জানি, আমার ভোগের বাহিরে তাহার অস্তিত্ব আমি গণ্যই করি না। জীবন শক্ত হইয়া বধিয়া গেছে, সঙ্গে সঙ্গে সে নিজের আবশ্যক পথিবীট কুকে টানিয়া অটিয়া লইয়াছে। নিজের মধ্যে এবং নিজের পথিবীর মধ্যে এখন আর কোনো রহস্য দেখিতে পাই না বলিয়াই শান্ত হইয়া আছি। নিজেকে সম্পণে জানি মনে করি এবং নিজের পথিবীটকুকেও সম্পণে জানিয়াছি বলিয়া সিথর করিয়াছি। এমন সময় পবে: দিগন্ত সিনগধ অন্ধকারে আচ্ছন্ন করিয়া কোথা হইতে সেই শতশতাব্দী পবেকার কালিদাসের মেঘ আসিয়া উপস্থিত হয়। সে আমার নহে; আমার পথিবীট কুর নহে; সে আমাকে কোন অলকাপুরীতে, কোন চিরযৌবনের পরীর পথচিহ্নহীন তাঁথাভিমুখে আকর্ষণ করিতে থাকে। তখন, পথিবীর যেটুকু জানি সেটুকু তুচ্ছ হইয়া যায়, যাহা জানিতে পারি নাই তাহাই বড়ো হইয়া উঠে, যাহা পাইলাম না তাহাকেই লব্ধ জিনিসের চেয়ে বেশি সত্য মনে হইতে থাকে। আমার নিত্যকমক্ষেত্রকে, নিত্যপরিচিত সংসারকে আচ্ছন্ন করিয়া দিয়া সজলমেঘমেদর পরিপণ নববর্ষা আমাকে অজ্ঞাত ভাবলোকের মধ্যে সমস্ত বিধিবিধানের বাহিরে একেবারে একাকী দাঁড় করাইয়া দেয়—পথিবীর এই কয়টা বৎসর কাড়িয়া লইয়া আমাকে একটি প্রকাণ্ড পরমায়রে বিশালত্বের মাঝখানে পথাপন করে ; আমাকে রামগিরি-আশ্রমের জনশন্য শৈলশঙ্গের শিলাতলে সংগীহীন করিয়া ছাড়িয়া দেয়। সেই নিজন শিখর এবং আমার কোনো-এক চিরনিকেতন অন্তরাত্মার চিরগম্যস্থান অলকাপুরীর মাঝখানে একটি সবাহৎ সন্দের পথিবী পড়িয়া আছে মনে পড়ে—নদীকলধৰনিত, সানমৎপবতবন্ধীর, জীবনকুঞ্জচ্ছায়ান্ধকার, নববারিসিঞ্চিত যথেীসগন্ধি একটি বিপলে পথিবী। হৃদয় সেই পথিবীর বনে বনে গ্রামে গ্রামে শব্গে শঙ্গে নদীর কালে কলে ফিরিতে ফিরিতে, অপরিচিত সন্দেরের পরিচয় লইতে লইতে, দীঘ বিরহের শেষ মোক্ষস্থানে যাইবার জন্য মানসোৎসকে হংসের ন্যায় উৎসকে হইয়া উঠে। মেঘদত ছাড়া নববর্ষার কাব্য কোনো সাহিত্যে কোথাও নাই। ইহাতে বর্ষার সমস্ত অন্তবেদনা নিত্যকালের ভাষায় লিখিত হইয়া গেছে। প্রকৃতির সাংবৎসরিক মেঘোৎসবের অনিবাচনীয় কবিত্বগাথা মানবের ভাষায় বাঁধা পড়িয়াছে। পাবমেঘে বহৎ পথিবী আমাদের কল্পনার কাছে উদঘাটিত হইয়াছে।