পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৬৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১৬২ সংকলন আমরা সম্পন্ন গহপথটি হইয়া আরামে সন্তোষের অর্ধনিমীলিতলোচনে যে গহটকুর মধ্যে বাস করিতেছিলাম, কালিদাসের মেঘ আষাঢ়স্য প্রথম দিবসে হঠাৎ আসিয়া আমাদিগকে সেখান হইতে ঘরছাড়া করিয়া দিল। আমাদের গোয়ালঘর-গোলাবাড়ির বহন্দরে যে আবৰ্তচঞ্চলা নমাদা ভ্রাকৃটি রচনা করিয়া চলিয়াছে, যে চিত্রকটের পাদকুঞ্জ প্রফুল্ল নবনীপে বিকশিত, উদয়নকথাকোবিদ গ্রামবন্ধদের বারের নিকট যে চৈত্যবট শাককাকলীতে মুখর, তাহাই আমাদের পরিচিত ক্ষুদ্র সংসারকে নিরস্ত করিয়া বিচিত্র সৌন্দর্যের চিরসত্যে উদ্ভাসিত হইয়া দেখা দিয়াছে। বিরহীর বাগ্রতাতেও কবি পথসংক্ষেপ করেন নাই। আষাঢ়ের নীলাভ মেঘচ্ছায়াবত নগ-নদী-নগর-জনপদের উপর দিয়া রহিয়া রহিয়া ভাববিস্ট অলসগমনে যাত্রা করিয়াছেন। যে তাঁহার মগধনয়নকে অভ্যর্থনা করিয়া ডাকিয়াছে, তিনি তাহকে আর না বলিতে পারেন নাই। পাঠকের চিত্তকে কবি বিরহের বেগে বাহির করিয়াছেন, আবার পথের সৌন্দর্যে মন্থর করিয়া তুলিয়াছেন। যে চরম পথানে মন ধাবিত হইতেছে তাহার সন্দীঘ পথটিও মনোহর, সে পথকে উপেক্ষা করা যায় না। বর্ষায় অভ্যস্ত পরিচিত সংসার হইতে বিক্ষিপ্ত হইয়া মন লাহিরের দিকে যাইতে চায়, পর্বমেঘে কবি আমাদের সেই আকাংক্ষাকে উদবেলিত করিয়া তাহারই কলগান জাগাইয়াছেন; আমাদিগকে মেঘের সংগী করিয়া অপরিচিত পথিবীর মাঝখান দিয়া লইয়া চলিয়াছেন। সে পথিবী অনাঘ্ৰাতং পাপম', তাহা আমাদের প্রাতাহিক ভোগের দ্বারা কিছমাত্র মলিন হয় নাই, সে পথিবীতে আমাদের পরিচয়ের প্রাচীর দ্বারা কল্পনা কোনোখানে বাধা পায় না। যেমন ঐ মেঘ তেমনি সেই পথিবী। আমার এই সুখ-দঃখ-ক্লান্তিঅবসাদের জীবন তাহাকে কোথাও সপশ করে নাই। প্রৌঢ়বয়সের নিশ্চয়তা বেড়া দিয়া ঘের দিয়া তাহাকে নিজের বাস্তুবাগানের অন্তৰ্ভুক্ত করিয়া লয় নাই। অজ্ঞাত নিখিলের সহিত নবীন পরিচয়, এই হইল পর্বমেঘ। নবমেঘেব আর-একটি কাজ আছে। সে আমাদের চরি দিকে একটি পরমনিভূত পরিবেস্টন রচনা করিয়া, জননান্তরসৌহদানি মনে করাইযা দেয়; অপরাপ সৌন্দৰ্যলোকের মধো কোনো একটি চিরজ্ঞাত চিরপ্রিয়েব জনা মনকে উতলা করিয়া তোলে। পব'মেঘে বহুবিচিত্রের সহিত সৌন্দর্যের পরিচয় এবং উত্তরমেঘে সেই একের সহিত আনন্দের সম্মিলন। পথিবীতে বহর মধ্য দিয়া সেই সখের