পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৬৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


নববষা > )○ যাত্রা, এবং সবগুলোকে একের মধ্যে সেই অভিসারের পরিণাম। নববর্ষার দিনে এই বিষয়কমের ক্ষুদ্র সংসারকে কে না বলিবে নিবাসন। প্রভুর অভিশাপেই এখানে আটকা পড়িয়া আছি। মেঘ আসিয়া বাহিরে যাত্রা করিবার জন্য আহবান করে, তাহাই পব'মেঘের গান এবং যাত্রার অবসানে চিরমিলনের জন্য আশবাস দেয়, তাহাই উত্তরমেঘের সংবাদ । সকল কবির কাব্যের গঢ় অভ্যন্তরে এই পর্বমেঘ ও উত্তরমেঘ আছে। সকল বড়ো কাব্যই আমাদিগকে বাহতের মধ্যে আহবান করিয়া আনে ও নিভৃতের দিকে নিদেশ করে। প্রথমে বন্ধন ছেদন করিয়া বাহির করে, পরে একটি ভূমার সহিত বধিয়া দেয়। প্রভাতে পথে লইয়া আসে, সন্ধ্যায় ঘরে লইয়া যায়। একবার তানের মধ্যে আকাশ-পাতাল ঘরাইয়া সমের মধ্যে পণে আনন্দে । দাঁড় করাইয়া দেয়। যে কবির তান আছে কিন্তু কোথাও সম নাই, যাহার মধ্যে কেবল উদ্যম আছে আশ্ববাস নাই, তাহার কবিত্ব উচ্চকাব্যশ্রেণীতে পথায়ী হইতে পারে না। শেষের দিকে একটা কোথাও পৌছাইয়া দিতে হইবে, এই ভরসাতেই আমরা আমাদের চিবাভাসত সংসারের বাহির হইয়া কবির সহিত যাত্রা করি ; পাপিত পথের মধ্য দিয়া আনিয়া হঠাৎ একটা শান্যগহরের ধারে ছাড়িয়া দিলে বিশ্ববাসঘাতকতা করা হয়। এইজন্য কোনো কবির কাব্য পড়িবার সময় আমরা এই দটি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করি, তাঁহার পর্বমেঘ আমাদিগকে কোথায় বাহির করে এবং উত্তরমেঘ কোন সিংহদ্বারের সম্মখে আনিয়া উপনীত করে। শ্রাবণ ১৩o 8