পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ছাত্রদের প্রতি সম্পভাষণ SS আমার পক্ষে অসম্ভব; কিন্তু নিজেদের নবীন কৈশোরের সমতিটুকুও তো ভস্মাবত অগ্নিকণার মতো পঙ্ককেশের নীচে এখনো প্রচ্ছন্ন হইয়া আছে। সেই সমতির বলে ইহা নিশ্চয় জানিতেছি যে, মহৎ আকাঙ্ক্ষার রাগিণী মনে যে তারে সহজে বাজিয়া উঠে, তোমাদের অন্তরের সেই সক্ষম, সেই তীক্ষা, সেই প্রভাতস্য রশিমনিমিত তন্তুর ন্যায় উজ্জল তন্ত্রীগুলিতে এখনো অব্যবহারের মরিচা পড়িয়া যায় নাই; উদার উদ্দেশ্যের প্রতি নিবিচারে আত্মবিসর্জন করিবার দিকে মানুষের মনের যে-একটা স্বাভাবিক ও সুগভীর প্রেরণা আছে, তোমাদের অন্তঃকরণে এখনো তাহা ক্ষুদ্র বাধার বারা বারংবার প্রতিহত হইয়া নিস্তেজ হয় নাই; আমি জানি, স্বদেশ যখন অপমানিত হয়, আহত অনির ন্যায় তোমাদের হৃদয় উদ্দীপত হইয়া উঠে; দেশের অভাব ও অগৌরব যে কেমন করিয়া দর হইতে পারে, সেই চিন্তা নিশ্চয়ই মাঝে মাঝে তোমাদের রজনীর বিনিদ্র প্রহর ও দিবসের নিভৃত অবকাশকে আক্ৰমণ করে; আমি জানি, ইতিহাসবিশ্রত যে-সকল মহাপরিষে দেশহিতের জন্য, লোকহিতের জন্য আপনাকে উৎসগা করিয়া মৃত্যুকে পরাস্ত, বাথকে লজিত ও দুঃখক্লেশকে অমর মহিমায় সমন্জেল করিয়া গেছেন, তাঁহাদের দন্টান্ত তোমাদিগকে যখন আহবান করে তখন তাহাকে আজও তোমরা বিজ্ঞ বিষয়ীর মতো বিদ্রপের সহিত প্রত্যাখ্যান করিতে চাও না—তোমাদের সেই অনাঘাত পপের ন্যায়, অখণ্ড পণ্যের ন্যায় নবীন হৃদয়ের সমস্ত আশা-আকাঙ্ক্ষাকে আমি আজ তোমাদের দেশের সারস্বতবগের নামে আহবান করিতেছি—ভোগের পথে নহে, ভিক্ষার পথে নহে, কমের পথে। দেশের কাব্যে গানে ছড়ায়, প্রাচীন মন্দিরের ভগ্নাবশেষে, কাঁটদষ্ট পথির জীণাপত্রে, গ্রাম্য পাবণে, ব্ৰতকথায়, পল্লীর কৃষিকুটিরে, প্রত্যক্ষ বস্তুকে স্বাধীন চিন্তা ও গবেষণার বারা জানিবার জন্য, শিক্ষার বিষয়কে কেবল পুথির মধ্য হইতে মুখপথ না করিয়া বিশেবর মধ্যে তাহাকে সন্ধান করিবার জন্য তোমাদিগকে আহবান করিতেছি; এই আহবানে যদি তোমরা সাড়া দাও তবেই তোমরা যথার্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হইতে পরিবে; তবেই তোমরা সাহিত্যকে অনাকরণের বিড়ম্বন হইতে রক্ষা করিতে পারিবে এবং দেশের চিৎশক্তিকে দুবলতার অবসাদ হইতে উদ্ধার করিয়া জগতের জ্ঞানীসভায় স্বদেশকে সমাদত করিতে পারিবে। কমশালার প্রবেশদ্বার অতি ক্ষুদ্র, রাজপ্রাসাদের সিংহদ্বারের ন্যায় ইহা অভ্ৰভেদী নহে; কিন্তু গৌরবের বিষয় এই যে, এখানে নিজের শক্তি সবল করিয়া প্রবেশ করিতে হয়, ভিক্ষাপার লইয়া নহে; গৌরবের বিষয় এই যে, এখানে প্রবেশের জন্য বারীর অনুমতির অপমান স্বীকার করিতে হয় না, ঈশ্বরের আদেশ শিরোপাল" ૨