পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৭১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কেকাধনি ১৬৫ গোড়ার দিককার নিতান্ত সহজ ও ললিত অংশকে আর খাতির করে না। কারণ, সেটুকুর সীমা সে জানিয়া লইয়াছে; সেটুকুর দৌড় যে বেশিদর নহে তাহা সে বোঝে; এইজনাই তাহার অন্তঃকরণ তাহাতে জাগে না। অশিক্ষিত সেই সহজ অংশটুকুই বুঝিতে পারে, অথচ তখনো সে তাহার সীমা পায় না— এইজন্যই সেই অগভীর অংশেই তাহার একমাত্র আনন্দ। সমজদারের আনন্দকে সে একটা কিভূত ব্যাপার বলিয়া মনে করে, অনেক সময় তাহাকে কপটতার আড়ম্ববর বলিয়াও গণ্য করিয়া থাকে। এইজন্যই সব প্রকার কলাবিদ্যা সম্পবন্ধে শিক্ষিত ও অশিক্ষিতের আনন্দ ভিন্ন ভিন্ন পথে যায়। তখন এক পক্ষ বলে, “তুমি কী বুঝিবে!' আর-এক পক্ষ রাগ করিয়া বলে, “যাহা বুঝিবার তাহা কেবল তুমিই বোঝ, জগতে আর কেহ বোঝে না! একটি সগভীর সামঞ্জস্যের আনন্দ, সংস্থান-সমাবেশের আনন্দ, দরবতীর সহিত যোগ-সংযোগের আনন্দ, পাশ্ববতীর সহিত বৈচিত্র্যসাধনের আনন্দ– এইগলি মানসিক আনন্দ। ভিতরে প্রবেশ না করিলে, না বুঝিলে, এ আনন্দ ভোগ করিবার উপায় নাই। উপর হইতেই চট করিয়া যে সুখ পাওয়া যায়, ইহা তাহা অপেক্ষা প্ৰথায়ী ও গভীর। এবং এক হিসাবে তাহা অপেক্ষা ব্যাপক। যাহা অগভীর, লোকের শিক্ষাবিস্তারের সঙ্গে, অভ্যাসের সঙ্গে কুমেই তাহা ক্ষয় হইয়া তাহার রিক্ততা বাহির হইয়া পড়ে। যাহা গভীর তাহা আপাতত বহলোকের গম্য না হইলেও বহুকাল তাহার পরমায় থাকে; তাহার মধ্যে যে-একটি শ্রেষ্ঠতার আদশ আছে তাহা সহজে জীণ হয় না। জয়দেবের ললিতলবঙ্গলতা ভালো বটে, কিন্তু বেশিক্ষণ নহে। ইন্দ্রির তাহাকে মন-মহারাজের নিকট নিবেদন করে, মন তাহাকে একবার পশ" করিয়াই রাখিয়া দেয়— তখন তাহা ইন্দুিয়ের ভোগেই শেষ হইয়া যায়। 'ললিতলবঙ্গলতার পাবে কুমারসম্ভবের একটা শেলাক ধরিয়া দেখা যাক : আবজিতা কিঞ্চিদিব পতনাভ্যাং বাসো বসানা তরুণাকরাগম । পর্যাপ্তপপেস্তবকাবনমা সঞ্চারিণী পল্লবিনী লতেব । ছন্দ আলীলায়িত নহে, কথাগুলি যন্তোক্ষরবহলে, তব ভ্রম হয় এই শেলাক 'ললিতলবঙ্গলতার অপেক্ষাও কানে মিষ্ট শনাইতেছে। কিন্তু তাহা শ্রম। মন নিজের সজেনশক্তির বারা ইন্দ্রিয়সুখ পরণ করিয়া দিতেছে। যেখানে লোলপে ইন্দ্রিয়গণ ভিড় করিয়া না দাঁড়ায় সেইখানেই মন এইরুপ সজনের