পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৭৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ՏԳ Հ সংকলন অপবরহস্যময় হইয়া উঠিয়াছে। যাহাকে নিয়মের দিক দিয়া, স্থিতির দিক দিয়া, বেশ ছোটোখাটো, বেশ দস্তুরসংগত, বেশ আপনার বলিয়াই বোধ হইয়াছিল, তাহাকে ভাঙনের দিক হইতে, ঐ মশানচারী পাগলের তরফ হইতে হঠাৎ দেখিতে পাইলে মখে আর বাক্য সরে না—আশ্চর্য ও কে! যাহাকে চিরদিন জানিয়াছি সেই কি এই! যে এক দিকে ঘরের, সে আর-এক দিকে অন্তরের; যে এক দিকে কাজের, সে আর-এক দিকে সমস্ত আবশ্যকের বাহিরে; যাহাকে এক দিকে সপশ করিতেছি সে আর-এক দিকে সমস্ত আয়ত্তের অতীত; যে এক দিকে সকলের সঙ্গে বেশ খাপ খাইয়া গিয়াছে, সে আর-এক দিকে ভয়ংকর খাপছাড়া, আপনাতে আপনি। প্রতিদিন যাঁহাকে দেখি নাই আজ তাঁহাকে দেখিলাম, প্রতিদিনের হাত হইতে মন্তিলাভ করিয়া বাঁচলাম। আমি ভাবিতেছিলাম, চারি দিকে পরিচিতের বেড়ার মধ্যে প্রাত্যহিক নিয়মের দ্বারা আমি বাঁধা ; আজ দেখিতেছি মহা-অপবের কোলের মধ্যে চিরদিন আমি খেলা করিতেছি। আমি ভাবিয়াছিলাম, আপিসের বড়োসাহেবের মতো অত্যন্ত একজন সুগভীর হিসাবি লোকের হাতে পড়িয়া সংসারে প্রত্যহ অকি পাড়িয়া যাইতেছি ; আজ সেই বড়োসাহেবের চেয়ে যিনি বড়ো, সেই মস্ত বেহিসাব পাগলের বিপুল উদার অট্টহাস্য জলে পথলে আকাশে সন্তলোক ভেদ করিয়া ধৰনিত শনিয়া হপি ছাড়িয়া বাঁচিলাম। আমার খাতাপত্র সমস্ত রহিল পড়িয়া। আমার জরুরি কাজের বোঝা ঐ সটিছাড়ার পায়ের কাছে ফেলিয়া দিলাম—তাঁহার তাণ্ডবনতোর আঘাতে তাহা চণবিচর্ণ হইয়া, ধলি হইয়া উড়িয়া যাক। শ্রাবণ ১৩১১