পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৮১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরং ১৭৫ ইহাদের যত শোভা যত আনন্দ সেই দদিনের মধ্যে ঘনাইয়া তুলিতে হয়। সযের আলো ইহাদের জন্য যেন পথের ধারের পানসত্রের মতো—ইহারা তাড়াতাড়ি গণ্ডষে ভরিয়া সযকিরণ পান করিয়া লইয়াই চলিয়া যায়, বনস্পতির মতো জল বাতাস মাটিতে ইহাদের অন্নপানের বাঁধা বরাদ নাই, ইহারা পথিবীতে কেবল আতিথ্যই পাইল, আবাস পাইল না। শরৎ পথিবীর এই-সব ছোটোদের, এই-সব ক্ষণজীবীদের ক্ষণিক উৎসবের ঋতু। ইহারা যখন আসে তখন কোল ভরিয়া আসে, যখন চলিয়া যায় তখন শান্য প্রান্তরটা শন্য আকাশের নীচে হা-হা করিতে থাকে। ইহারা পথিবীর সবজি মেঘ, হঠাৎ দেখিতে দেখিতে ঘনাইয়া ওঠে; তার পরে প্রচুর ধারায় আপন বর্ষণ সারিয়া দিয়া চলিয়া যায়, কোথাও নিজের কোনো দাবিদাওয়ার দলিল রাখে না । আমরা তাই বলিতে পারি হে শরং, তুমি শিশিরাশ্র ফেলিতে ফেলিতে গত এবং আগতের ক্ষণিক মিলনশয্যা পাতিয়াছ। যে বর্তমানটুকুর জন্য অতীতের চতুদোলা বারের কাছে অপেক্ষা করিয়া আছে, তুমি তারই মুখচুম্বন করিতেছ—তোমার হাসিতে চোখের জল গড়াইয়া পড়িতেছে। মাটির কন্যার আগমনীর গান এই তো সেদিন বাজিল। মেঘের নন্দীভূগী শিঙা বাজাইতে বাজাইতে গৌরী শারদকে এই কিছুদিন হইল ধরাজননীর কোলে রাখিয়া গেছে। কিন্তু বিজয়ার গান বাজিতে আর তো দেরি নাই; মশানবাসী পাগলটা এল বলিয়া; তাকে তো ফিরাইয়া দিবার জো নাই, হাসির চন্দ্রকলা তার ললাটে লাগিয়া আছে, কিন্তু তার জটায় জটায় কান্নার মন্দাকিনী। শেষকালে দেখি, ঐ পশ্চিমের শরৎ আর এই পাবদেশের শরৎ একই জায়গায় আসিয়া অবসান হয়—সেই দশমীরাত্রির বিজয়ার গানে । পশ্চিমের কবি শরতের দিকে তাকাইয়া গাহিতেছেন, বসন্ত তার উৎসবের সাজ ব্যথা সাজাইল, তোমার নিঃশব্দ ইঙ্গিতে পাতার পর পাতা খসিতে খসিতে সোনার বৎসর আজ মাটিতে মিশিয়া মাটি হইল যে।’ তিনি বলিতেছেন, ফালগুনের মধ্যে মিলনপিপাসিনীর যে রসব্যাকুলতা তাহা শান্ত হইয়াছে, জ্যৈষ্ঠের মধ্যে তপ্তনিশবাসবিক্ষব্ধ যে হাংপন্দন তাহা সতধ হইয়াছে। ঝড়ের মাতনে লণ্ডভণ্ড অরণ্যের গায়ন-সভায় তোমার ঝোড়ো বাতাসের দল তাহাদের প্ৰেতলোকের রন্দ্রবীণায় তার চড়াইতেছে, তোমারই মৃত্যুশোকের বিলাপগান গাহিবে বলিয়া। তোমার বিনাশের শ্ৰী, তোমার সৌন্দর্যের বেদনা কমে সতাঁর ' शरैग्ना ऍठेिळ, tश् विलौग्नधान प्राश्धाव्र धउिब्रश ।।'