পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৮৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মেঘদত তার পাশেই আছি তব নিবাসন। বড়ো কাছে থাকার এই বিরহ, এত কাছে একজন আর-একজনকে সবটা দেখতে পায় না। মিলনের প্রথম দিনে বাঁশি কী বলেছিল। সে বলেছিল, সেই মানুষ আমার কাছে এল যে মানুষ আমার দরের। আর বাঁশি বলেছিল, 'ধরলেও যাকে ধরা যায় না তাকে ধরেছি, পেলেও সকল পাওয়াকে যে ছাড়িয়ে যায় তাকে পাওয়া গেল।" তার পরে রোজ বাঁশি বাজে না কেন। কেননা, আধখানা কথা ভুলেছি। শধ্যে মনে রইল, সে কাছে; কিন্তু সে যে দরেও তা খেয়াল রইল না। প্রেমের যে আধখানায় মিলন সেইটেই দেখি, যে আধখানায় বিরহ সে চোখে পড়ে না, তাই দরের চিরতৃতিহীন দেখাটা আর দেখা যায় না, কাছের পদা আড়াল করেছে। দই মানষের মাঝে যে অসীম আকাশ সেখানে সব চুপ, সেখানে কথা চলে না। সেই মস্ত চুপকে বাঁশির সরে দিয়ে ভরিয়ে দিতে হয়। অনন্ত আকাশের ফাঁক না পেলে বাঁশি বাজে না। সেই আমাদের মাঝের আকাশটি অধিতে ঢেকেছে, প্রতিদিনের কাজে কমে' কথায় ভরে গিয়েছে, প্রতিদিনের ভয় ভাবনা কৃপণতায়। SR এক-একদিন জ্যোং নারাত্রে হাওয়া দেয়; বিছানার পরে জেগে বসে বক ব্যথিয়ে ওঠে; মনে পড়ে, এই পাশের লোকটিকে তো হারিয়েছি। এই বিরহ মিটবে কেমন করে, আমার অনন্তের সঙ্গে তার অনন্তের বিরহ ? দিনের শেষে কাজের থেকে ফিরে এসে যার সঙ্গে কথা বলি সে কে। সে তো সংসারের হাজার লোকের মধ্যে একজন, তাকে তো জানা হয়েছে, চেনা হয়েছে, সে তো ফরিয়ে গেছে। কিন্তু, ওর মধ্যে কোথায় সেই আমার অফরান একজন, সেই আমার একটিমাত্র? ওকে আবার নতন করে খাঁজে পাই কোন কলহারা কামনার ধারে ?