পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৮৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


○ ゲO সংকলন ওর সঙ্গে আবার একবার কথা বলি সময়ের কোন ফাঁকে, বনমল্লিকার গন্ধে নিবিড় কোন কম্যহীন সন্ধ্যার অন্ধকারে ? උ এমন সময়ে নববর্ষা ছায়া-উত্তরীয় উড়িয়ে পাবদিগন্তে এসে উপসিথত। উজয়িনীর কবির কথা মনে পড়ে গেল। মনে হল, প্রিয়ার কাছে দত পাঠাই। আমার গান চলকে উড়ে, পাশে থাকার দরদগম নিবাসন পার হয়ে যাক। কিন্তু তা হলে তাকে যেতে হবে, কালের উজান পথ বেয়ে বাঁশির ব্যথায় ভরা আমাদের প্রথম মিলনের দিনে—সেই আমাদের যে দিনটি বিশ্বের চিরবষা ও চিরবসন্তের সকল গন্ধে, সকল ক্লদনে জড়িয়ে রয়ে গেল, কেতকীবনের দীঘনিশবাসে আর শালমঞ্জরীর উতলা আত্মনিবেদনে। নিজন দিঘির ধারে নারিকেলবনের মমরমুখরিত বর্ষার আপন কথাটিকেই আমার কথা করে নিয়ে প্রিয়ার কানে পৌছিয়ে দিক, যেখানে সে তার এলো চুলে গ্রন্থি দিয়ে, অচিল কোমরে বোধে, সংসারের কাজে ব্যস্ত। 8 বহন্দরের অসীম আকাশ আজ বনরাজিনীলা পথিবীর শিয়রের কাছে নত হয়ে পড়ল। কানে কানে বললে, "আমি তোমারই।’ পথিবী বললে, সে কেমন করে হবে। তুমি যে অসীম, আমি যে ছোটো। আকাশ বললে, “আমি তো চার দিকে আমার মেঘের সীমা টেনে দিয়েছি।” পৃথিবী বললে, তোমার যে কত জ্যোতিকের সম্পদ, আমার তো আলোর সমপদ নেই!’ আকাশ বললে, ‘আজ আমি আমার চন্দ্র সন্য তারা সব হারিয়ে ফেলে এসেছি, আজ আমার একমাত্র তুমি আছ। পথিবী বললে, “আমার আশ্রভেরা হাদয় হাওয়ায় হাওয়ায় চঞ্চল হয়ে কাঁপে, তুমি যে অবিচলিত। আকাশ বললে, “আমার আশ্রমও আজ চঞ্চল হয়েছে, দেখতে কি পাও নি। আমার বক্ষ আজ শ্যামল হল তোমার ঐ শ্যামল হৃদয়টির মতো। সে এই বলে আকাশ-পৃথিবীর মাঝখানকার চিরবিরহটাকে চোখের জলের গান দিয়ে ভরিয়ে দিলে।