পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৮৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বশি বশির বাণী চিরদিনের বাণী—শিবের জটা থেকে গঙ্গার ধারা—প্রতিদিনের মাটির বক বেয়ে চলেছে; অমরাবতীর শিশ: নেমে এল মতের ধালি নিয়ে সবগ-সবগ খেলতে। পথের ধারে দাঁড়িয়ে বাঁশি শনি আর মন যে কেমন করে বাবতে পারি নে। সেই বাথাকে চেনা সখদঃখের সঙ্গে মেলাতে যাই, মেলে না। দেখি, চেনা হাসির চেয়ে সে উজল, চেনা চোখের জলের চেয়ে সে গভীর। আর মনে হতে থাকে, চেনাটা সত্য নয়, অচেনাই সত্য। মন এমন সন্টিছাড়া ভাব ভাবে কী করে। কথায় তার কোনো জবাব নেই। আজ ডোরবেলাতেই উঠে শনি, বিয়েবাড়িতে বাঁশি বাজছে। বিয়ের এই প্রথম দিনের সরের সঙ্গে প্রতিদিনের সরের মিল কোথায়। গোপন অতৃপ্তি, গভীর নৈরাশ্য; অবহেলা অপমান অবসাদ; তুচ্ছ কামনার কাপণ্য, কুশ্রী নীরসতার কলহ, ক্ষমাহীন ক্ষদ্রতার সংঘাত, অভ্যস্ত জীবনযাত্রার ধলিলিপ্ত দারিদ্র্য—বশির দৈববাণীতে এ-সব বাতার আভাস কোথায়। গানের সরে সংসারের উপর থেকে এই-সমস্ত চেনা কথার পর্দা এক টানে ছিড়ে ফেলে দিলে। চিরদিনকার বর-কনের শভেদটি হচ্ছে কোন রত্নাংশকের সলজ অবগণ্ঠনতলে, তাই তার তানে তানে প্রকাশ হয়ে পড়ল। যখন সেখানকার মালাবদলের গান বশিতে বেজে উঠল তখন এখানকার এই কনেটির দিকে চেয়ে দেখলেম—তার গলায় সোনার হার, তার পায়ে দগাছি মল, সে যেন কান্নার সরোবরে আনন্দের পদ্মটির উপরে দাঁড়িয়ে। সরের ভিতর দিয়ে তাকে সংসারের মানুষ বলে আর চেনা গেল না। সেই চেনা ঘরের মেয়ে অচিন ঘরের বউ হয়ে দেখা দিলে। বাঁশি বলে, এই কথাই সত্য। कर्णाउकि s७२७