পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৮৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সন্ধ্যা ও প্রভাত এখানে নামল সন্ধ্যা। সযদেব, কোন দেশে কোন সমদ্রপারে তোমার প্রভাত श्ल । অন্ধকারে এখানে কোপে উঠছে রজনীগন্ধা, বাসরঘরের বারের কাছে অবগঠিতা নববধর মতো; কোনখানে ফটল ভোরবেলাকার কনকচাঁপা। জাগল কে। নিবিয়ে দিল সন্ধ্যায়-জালানো দীপ, ফেলে দিল রায়ে-গাঁথা সেউতিফলের মালা। এখানে একে একে দরজায় আগল পড়ল, সেখানে জানলা গেল খালে। এখানে নৌকো ঘাটে বাঁধা, মাঝি ঘামিয়ে; সেখানে পালে লেগেছে হাওয়া। ওরা পান্থশালা থেকে বেরিয়ে পড়েছে, পবের দিকে ওদের মুখ; ওদের কপালে লেগেছে সকালের আলো, ওদের পারানির কড়ি এখনো ফরোয় নি; ওদের জন্যে পথের ধারের জানলায় জানলায় কালো চোখের করণ কামনা অনিমেষ তাকিয়ে; রাস্তা ওদের সামনে নিমন্ত্রণের রাঙা চিঠি খালে ধরলে, বললে, তোমাদের জন্যে সব প্রস্তুত। ওদের হৃৎপিণ্ডে রক্তের তালে তালে জয়ভেরী বেজে উঠল। এখানে সবাই ধন্সর আলোয় দিনের শেষ খেয়া পার হল। পান্থশালার আঙিনায় এরা কাঁথা বিছিয়েছে; কেউ-বা একলা, কারো-বা সঙ্গী ক্লান্ত; সামনের পথে কী আছে অন্ধকারে দেখা গেল না, পিছনের পথে কী ছিল কানে-কানে বলাবলি করছে; বলতে বলতে কথা বেধে যায়, তার পরে চুপ করে থাকে; তার পরে আঙিনা থেকে উপরে চেয়ে দেখে, আকাশে উঠেছে সপ্তর্ষি"। সযদেব, তোমার বামে এই সন্ধ্যা, তোমার দক্ষিণে ঐ প্রভাত—এদের তুমি মিলিয়ে দাও। এর ছায়া ওর আলোটিকে একবার কোলে তুলে নিয়ে চুম্বন কর্ক, এর পরবী ওর বিভাসকে আশীবাদ করে চলে যাক। कर्णाठ‘क s०२७