পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৯০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


উৎসবের দিন সকালবেলায় অন্ধকার ছিন্ন করিয়া ফেলিয়া আলোক যেমনি ফটিয়া বাহির হয়, অমনি বনে-উপবনে পাখিদের উৎসব পড়িয়া যায়। সে উৎসব কিসের উৎসব। কেন এই-সমস্ত বিহঙ্গের দল নাচিয়া-কুদিয়া গান গাহিয়া এমন অসিথর হইয়া উঠে। তাহার কারণ এই প্রতিদিন প্রভাতে আলোকের পশে পাখিরা নতন করিয়া আপনার প্রাণবান গতিমান চেতনাবান পক্ষীজন্ম সম্পণে ভাবে উপলব্ধি করিয়া অন্তরের আনন্দকে সংগীতের উৎসে উৎসারিত করিয়া দেয় । জগতের যেখানে অব্যাহত শক্তির প্রচুর প্রকাশ, সেইখানেই যেন মতিমান উৎসব। সেইজন্য হেমন্তের সযকিরণে অগ্রহায়ণের পক্কশস্যসমুদ্রে সোনার উৎসব হিল্লোলিত হইতে থাকে, সেইজন্য আম্রমঞ্জরীর নিবিড় গন্ধে ব্যাকুল নববসন্তে পাপবিচিত্র কুঞ্জবনে উৎসবের উৎসাহ উদ্দাম হইয়া উঠে। মানুষের উৎসব কবে। মানুষ যেদিন আপনার মনুষ্যত্বের শক্তি বিশেষভাবে সমরণ করে, বিশেষভাবে উপলব্ধি করে, সেইদিন। যেদিন আমরা আপনাদিগকে প্রাত্যহিক প্রয়োজনের দ্বারা চালিত করি সেদিন না; যেদিন আমরা আপনাদিগকে সাংসারিক সংখদঃখের বারা ক্ষুব্ধ করি, সেদিন না; যেদিন প্রাকৃতিক নিয়মপরম্পরার হতে আপনাদিগকে ক্ৰীড়াপত্তলির মতো ক্ষুদ্র ও জড় ভাবে অনুভব করি সেদিন আমাদের উৎসবের দিন নহে—সেদিন তো আমরা জড়ের মতো, উদ্ভিদের মতো, সাধারণ জন্তুর মতো—সেদিন তো আমরা আমাদের নিজের মধ্যে সবজয়ী মানবশক্তি উপলব্ধি করি না—সেদিন আমাদের আনন্দ কিসের। সেদিন আমরা গহে অবরুদ্ধ, সেদিন আমরা কমে ক্লিস্ট; সেদিন আমরা উজলভাবে আপনাকে ভূষিত করি না, সেদিন আমরা উদারভাবে কাহাকেও আহবান করি না, সেদিন আমাদের ঘরে সংসারচক্লের ঘঘরধনি শোনা যায় কিন্তু সংগীত শোনা যায় না। (अिर्जन মান্য ক্ষুদ্র দীন একাকী—কিন্তু উৎসবের দিনে মানুষ বহৎ; সেদিন সে সমস্ত মানুষের সঙ্গে একত্র হইয়া বহৎ, সেদিন সে সমস্ত মন:ষরে শক্তি অনুভব করিয়া মহৎ। মানুষের মধ্যে কী আশ্চযশক্তি আশ্চৰ্যরপে প্রকাশ পাইতেছে। আপনার সমস্ত ক্ষুদ্র প্রয়োজনকে অতিক্ৰম করিয়া মানুষ কোন উধের গিয়া দাঁড়াইয়াছে। জ্ঞানী জ্ঞানের কোন দলক্ষ্য দগমতার মধ্যে ধাবমান হইয়াছে, প্রেমিক প্রেমের কোন পরিপণ আত্মবিসর্জনের মধ্যে গিয়া উত্তীণ হইয়াছে, কমাঁ কমের