পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৯৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দুঃখ দঃখের তত্ত্ব আর সন্টির তত্ত্ব একেবারে একসঙ্গে বাঁধা। কারণ, অপর্ণতাই তো দুঃখ এবং সন্টিই যে অপর্ণ। সেই অপর্ণতাই বা কেন। এটা একেবারে গোড়ার কথা। সন্টি অপর্ণ হইবে না, দেশে কালে বিভক্ত হইবে না, কায কারণে আবদ্ধ হইবে না, এমন সন্টিছাড়া আশা আমরা মনেও আনিতে পারি না। অপণের মধ্য দিয়া নহিলে পণের প্রকাশ হইবে কেমন করিয়া। জগৎ অপাণ বলিয়াই তাহা চঞ্চল, মানবসমাজ অপর্ণ বলিয়াই তাহা সচেষ্ট, এবং আমাদের আত্মবোধ অপর্ণ বলিয়াই আমরা আত্মাকে এবং অন্যসমস্তকে বিভিন্ন করিয়াই জানি। কিন্তু, সেই চাঞ্চল্যের মধ্যেই শান্তি, দুঃখচেস্টার মধ্যেই সফলতা এবং বিভেদের মধ্যেই প্রেম। অতএব, এ কথা মনে রাখিতে হইবে, পণতার বিপরীত শান্যতা; কিন্তু অপণতা পণতার বিপরীত নহে, বিরদ্ধে নহে, তাহা পণ্যতারই বিকাশ। গান যখন চলিতেছে, যখন তাহা সমে আসিয়া শেষ হয় নাই, তখন তাহা সম্পর্ণে গান নহে বটে কিন্তু তাহা গানের বিপরীতও নহে—তাহার অংশে অংশে সেই সমপর্ণ গানেরই আনন্দ তরঙ্গিত হইতেছে। সেইজন্যই এই অপণে জগৎ শান্য নহে, মিথ্যা নহে। সেইজন্যই এ জগতে রপের মধ্যে অপরপ, শব্দের মধ্যে বেদনা, ঘ্ৰাণের মধ্যে ব্যাকুলতা আমাদিগকে কোন অনিবাঁচনীয়তায় নিমগ্ন করিয়া দিতেছে। সেইজন্য আকাশ কেবলমাত্র দিতেছে; আলোক কেবল আমাদের দস্টিকে সাথক করিতেছে না, তাহা আমাদের অন্তঃকরণকে উদবোধিত করিয়া তুলিতেছে এবং যাহা-কিছ আছে তাহা কেবল আছে মাত্র নহে, তাহাতে আমাদের চিত্তকে চেতনায়, আমাদের আত্মাকে সত্যে সম্পণ করিতেছে। যখন দেখি শীতকালের পক্ষার নিস্তরঙ্গ নীলকান্ত জলস্রোত পীতাভ বালতটের নিঃশব্দ নিজানতার মধ্য দিয়া নিরদেশ হইয়া যাইতেছে, তখন নদীর জল বহিতেছে’ এই বলিলেই তো সব বলা হইল না—এমনকি কিছুই বলা হইল না। তাহার আশ্চর্য শক্তি ও আশ্চর্য সৌন্দর্যের কী বলা হইল। সেই বচনের অতীত পরম পদার্থকে, সেই অপরপে রপকে, সেই ধননিহীন সংগীতকে, এই জলের ধারা কেমন করিয়া এত গভীরভাবে ব্যক্ত করিতেছে। এ তো কেবলমাত্র জল ও মাটি—মৎপিণ্ডো জলরেখয়া বলয়িতঃ। কিন্তু যাহা