পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৯৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ఏసిO সংকলন অমত যাহার ছায়া এবং মৃত্যুও যাঁহার ছায়া, তিনি ছাড়া আর-কোন দেবতাকে পজা করিব। সমস্ত মানষের অন্তরের মধ্যে এই উপলব্ধি গভীরভাবে আছে বলিয়াই মানুষ দঃখকেই পজা করিয়া আসিয়াছে, আরামকে নহে। জগতের ইতিহাসে মানুষের পরমপজাগণ দুঃখেরই অবতার, আরামে লালিত লক্ষীর ক্রীতদাস নহে। অতএব দঃখকে আমরা দর্বলতাবশত খব করিব না, অস্বীকার করিব না, দুঃখের বারাই আনন্দকে আমরা বড়ো করিয়া এবং মঙ্গলকে আমরা সত্য করিয়া জানিব। এ কথা আমাদিগকে মনে রাখিতে হইবে, অপর্ণতার গৌরবই দঃখ; দঃখই এই অপর্ণতার সম্পদ, দুঃখই তাহার একমাত্র মুলধন। মানুষ সত্যপদার্থ যাহা-কিছু পায় তাহা দুঃখের বারাই পায় বলিয়াই তাহার মনুষ্যত্ব। তাহার ক্ষমতা অলপ বটে, কিন্তু ঈশ্বর তাহাকে ভিক্ষক করেন নাই। সে শুধ চাহিয়াই কিছু পায় না, দুঃখ করিয়া পায়। আর যত-কিছয় ধন সে তো তাহার নহে—সে সমস্তই বিশ্বেশ্বরের। কিন্তু, দুঃখ যে তাহার নিতান্তই আপনার। আমাদের পক্ষ হইতে ঈশ্বরকে যদি কিছ দিতে হয় তবে কী দিব, কী দিতে পারি। তাঁহারই ধন তাঁহাকে দিয়া তো তৃপ্তি নাই—আমাদের একটিমাত্র যে আপনার ধন দুঃখধন আছে তাহাই তাঁহাকে সমপণ করিতে হয়। এই কথাই আমরা গৌরব করিয়া বলিতে পারি, হে রাজা, তুমি আমাদের দঃখের রাজা; হঠাৎ যখন অধরাত্রে তোমার রথচক্রের বজ্ৰগজনে মেদিনী বলির পশর হৃৎপিণ্ডের মতো কাঁপিয়া উঠে, তখন জীবনে তোমার সেই প্রচণ্ড আবিভাবের মহাক্ষণে যেন তোমার জয়ধনি করিতে পারি; হে দুঃখের ধন, তোমাকে চাহি না এমন কথা সেদিন যেন ভয়ে না বলি; সেদিন যেন বার ভাঙিয়া ফেলিয়া তোমাকে ঘরে প্রবেশ করিতে না হয়, যেন সম্পণে জাগ্রত হইয়া সিংহদ্বার হে দারণ, তুমিই আমার প্রিয়। আমরা দুঃখের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করিয়া অনেকবার বলিবার চেষ্টা করিয়া থাকি যে, আমরা সখদঃখকে সমান করিয়া বোধ করিব। কোনো উপায়ে চিত্তকে অসাড় করিয়া ব্যক্তিবিশেষের পক্ষে সেরাপ উদাসীন হওয়া হয়তো অসম্ভব না হইতে পারে। কিন্তু, সখেদঃখ তো কেবলই নিজের নহে, তাহা যে জগতের সমস্ত জীবের সঙ্গে জড়িত। আমার দুঃখবোধ চলিয়া গেলেই তো সংসার হইতে দুঃখ দর হয় না। অতএব, কেবলমাত্র নিজের মধ্যে নহে, দুঃখকে তাহার সেই বিরাট রঙ্গ- ৎ