পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ఏ8 সংকলন করিয়া বলিব। যদি ভারতের দেবতা ভারতেরই হন তবে তিনি আমাদের সবগের পথ বন্ধ করিবেন, কারণ সবগ বিশ্ববদেবতার। আসল কথা, আধনিক শিক্ষা তার বাহন পায় নাই—তার চলাফেরার পথ খোলসা হইতেছে না। এখনকার দিনে সবজনীন শিক্ষা সকল সভ্যদেশেই মানিয়া লওয়া হইয়াছে। যে কারণেই হউক আমাদের দেশে এটা চলিল না। মহাত্মা গোখলে এই লইয়া লড়িয়াছিলেন। শনিয়াছি, দেশের মধ্যে বাংলাদেশের কাছ হইতেই তিনি সব চেয়ে বাধা পাইয়াছেন। বাংলাদেশে শুভবুদ্ধির ক্ষেত্রে আজকাল হঠাৎ সকল দিক হইতেই একটা অদভুত মহামারীর হাওয়া বহিয়াছে। ভূতের পা পিছন দিকে, বাংলাদেশে সামাজিক সকল চেষ্টারই পা পিছনে ফিরিয়াছে। আমরা ঠিক করিয়াছি, সংসারে চলিবার পথে আমরা পিছন মথে চলিব, কেবল রাষ্ট্ৰীয় সাধনার আকাশে উড়িবার পথে আমবা সামনের দিকে উড়িব—আমাদের পা যে দিকে আমাদের ডানা ঠিক তার উলটা দিকে গজাইবে। যে সবজনীন শিক্ষা দেশের উচ্চশিক্ষার শিকড়ে রস জোগাইবে কোথাও তার সাড়া পাওয়া গেল না, তার উপরে আবার আর-এক উপসর্গ জটিয়াছে। এক দিকে আসবাব বাড়াইয়া অন্য দিকে স্থান কমাইয়া আমাদের সংকীর্ণ উচ্চশিক্ষার আয়তনকে আরো সংকীর্ণ করা হইতেছে। ছাত্রের অভাব ঘটক, কিন্তু সরঞ্জামের অভাব না ঘটে সে দিকে কড়া দস্টি। মানষের পক্ষে অন্নেরও দরকার থালারও দরকার এ কথা মানি, কিন্তু গরিবের ভাগ্যে অন্ন যেখানে যথেষ্ট মিলিতেছে না সেখানে থালা সম্বন্ধে একটা কষাকষি করাই দরকার। যখন দেখিব ভারত জড়িয়া বিদ্যার অন্নসত্র খোলা হইয়াছে তখন অন্নপর্ণার কাছে সোনার থালা দাবি করিবার দিন আসিবে। আমাদের জীবনযাত্রা গরিবের অথচ আমাদের শিক্ষার বাহ্যাড়ম্বরটা যদি ধনীর চালে হয় তবে টাকা ফুকিয়া দিয়া টাকার থলি তৈরি করার মতো হইবে। আঙিনায় মাদর বিছাইয়া আমরা আসর জমাইতে পারি; কলাপাতায় আমাদের ধনীর যজ্ঞের ভোজও চলে। আমাদের দেশে নমস্য যাঁরা তাঁদের অধিকাংশই খোড়ো ঘরে মানুষ; এ দেশে লক্ষীর কাছ হইতে ধার না লইলে সরস্বতীর আসনের দাম কমিবে, এ কথা আমাদের কাছে চলিবে না। পবদেশে জীবনসমস্যার সমাধান আমাদের নিজের প্রণালীতেই করিতে হইয়াছে। আমরা অশনে বসনে যতদর পারি বস্তুভার কমাইয়াছি। এ বিষয়ে এখানকার জল-হাওয়া হাতে ধরিয়া আমাদের হাতে খড়ি দিয়াছে। ঘরের দেয়াল আমাদের পক্ষে তত আবশ্যক নয় যতটা আবশ্যক দেয়ালের ফাঁক;