পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২০১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শ্রাবণসন্ধ্যা আজ শ্রাবণের অশ্রান্ত ধারাবর্ষণে জগতে আর যত কিছ কথা আছে সমস্তকেই ডুবিয়ে ভাসিয়ে দিয়েছে; মাঠের মধ্যে অন্ধকার আজ নিবিড়— এবং যে কখনো একটি কথা কইতে জানে না সেই মাক আজ কথায় ভরে উঠেছে। অন্ধকারকে ঠিকমতো তার উপযন্ত ভাষায় যদি কেউ কথা কওয়াতে পারে তবে সে এই শ্রাবণের ধারাপতনধননি। অন্ধকারের নিঃশব্দতার উপরে এই ঝর ঝর কলশব্দ যেন পদার উপরে পদা টেনে দেয়, তাকে আরো গভীর করে ঘনিয়ে তোলে, বিশ্বজগতের নিদ্রাকে নিবিড় করে আনে। বষ্টিপতনের এই অবিরাম শব্দ, এ যেন শব্দের অন্ধকার। আজ এই কর্মহীন সন্ধ্যাবেলাকার অন্ধকার তার সেই জপের মন্ত্রটিকে খ:জে পেয়েছে। বারবার তাকে ধর্মনিত করে তুলছে--শিশু তার নতনশেখা কথাটিকে নিয়ে যেমন অকারণে অপ্রয়োজনে ফিরে ফিরে উচ্চারণ করতে থাকে সেইরকম—তার শ্রান্তি নেই, শেষ নেই, তার আর বৈচিত্র্য নেই। আজ বোবা সন্ধ্যাপ্রকৃতির এই-যে হঠাৎ কন্ঠ খলে গিয়েছে এবং আশ্চর্য হয়ে সন্তাধ হয়ে সে যেন কুমাগত নিজের কথা নিজের কানেই শুনছে, আমাদের মনেও এর একটা সাড়া জেগে উঠেছে—সেও কিছ-একটা বলতে চাচ্ছে। ঐরকম খবে বড়ো করেই বলতে চায়, ঐরকম জল পথল আকাশ একেবারে ভরে দিয়েই বলতে চায়—কিন্তু সে তো কথা দিয়ে হবার জো নেই, তাই সে একটা সরকে খজছে। জলের কল্লোলে, বনের মমরে, বসন্তের উচ্ছাসে, শরতের আলোকে, বিশাল প্রকৃতির যা-কিছু কথা সে তো পষ্ট কথায় নয়—সে কেবল আভাসে ইঙ্গিতে, কেবল ছবিতে গানে। এইজন্যে প্রকৃতি যখন আলাপ করতে থাকে তখন সে আমাদের মখের কথাকে নিরসন্ত করে দেয়, আমাদের প্রাণের ভিতরে অনিবাচনীয়ের আভাসে-ভরা গানকেই জাগিয়ে তোলে। কথা জিনিসটা মানষেরই, আর গানটা প্রকৃতির। কথা স্পষ্ট এবং বিশেষ প্রয়োজনের দ্বারা সীমাবদ্ধ; আর গান অপস্ট এবং সীমাহীনের ব্যাকুলতায় উৎকণ্ঠিত। সেইজন্যে কথায় মানষে মনুষ্যলোকের এবং গানে মানুষ বিশ্বপ্রকৃতির সঙ্গে মেলে। এইজন্যে কথার সঙ্গে মানুষ যখন সরকে জড়ে দেয় তখন সেই কথা আপনার অর্থকে আপনি ছাড়িয়ে গিয়ে ব্যাপ্ত হয়ে যায়—সেই সরে মানষের সংখদঃথকে সমস্ত আকাশের জিনিস করে তোলে, তার বেদনা প্রভাতসন্ধ্যার দিগন্তে আপনার রঙ মিলিয়ে দেয়, জগতের