পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২০২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


து இது ' সংকলন বিরাট অব্যন্তের সঙ্গে যন্ত হয়ে একটি বহৎ অপরপেতা লাভ করে, মানুষের সংসারের প্রাত্যহিক সপরিচিত সংকীর্ণতার সঙ্গে তার ঐকান্তিক ঐক্য আর থাকে না। তাই নিজের প্রতিদিনের ভাষার সঙ্গে প্রকৃতির চিরদিনের ভাষাকে মিলিয়ে নেবার জন্যে মানুষের মন প্রথম থেকেই চেষ্টা করছে। প্রকৃতি হতে রঙ এবং রেখা নিয়ে নিজের চিন্তাকে মানুষ ছবি করে তুলছে, প্রকৃতি হতে সর এবং ছন্দ নিয়ে নিজের ভাবকে মানুষ কাব্য করে তুলছে। এই উপায়ে চিন্তা অচিন্তনীয়ের দিকে ধাবিত হয়, ভাব অভাবনীয়ের মধ্যে এসে প্রবেশ করে। এই উপায়ে মানুষের মনের জিনিসগুলি বিশেষ প্রয়োজনের সংকোচ এবং নিত্যব্যবহারের মলিনতা ঘাঁচিয়ে দিয়ে চিরন্তনের সঙ্গে যন্ত হয়ে এমন সরস নবীন এবং মহৎ মতিতে দেখা দেয়। আজ এই ঘন বর্ষার সন্ধ্যায় প্রকৃতির শ্রাবণ-অন্ধকারের ভাষা আমাদের ভাষার সঙ্গে মিলতে চাচ্ছে। অব্যক্ত আজ বাক্তের সঙ্গে লীলা করবে বলে আমাদের বারে এসে আঘাত করছে। আজ যুক্তিতক ব্যাখ্যাবিশ্লেষণ খাটবে না। আজ গান ছাড়া আর-কোনো কথা নেই। তাই আমি বলছি, আমার কথা আজ থাক। সংসারের কাজকমের সীমাকে, মনুষ্যলোকালয়ের বেড়াকে একটুখানি সরিয়ে দাও ; আজ এই আকাশ-ভরা শ্রাবণের ধারাবষণকে অবারিত অন্তরের মধ্যে আহবান করে নাও । প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের অন্তরের সম্বন্ধটি বড়ো বিচিত্র। বাহিরে তার কম ক্ষেত্রে প্রকৃতি এক রকমের, আবার আমাদের অন্তরের মধ্যে তার আর-এক মতি । একটা দন্টান্ত দেখো—গাছের ফল। তাকে দেখতে যতই শোঁখিন হোক, সে নিতান্তই কাজের দায়ে এসেছে। তার সাজসজ্জা সমস্তই আপিসের সাজ। যেমন করে হোক, তাকে ফল ফলাতেই হবে, নইলে তরবংশ পথিবীতে টিকবে না, সমস্ত মরভূমি হয়ে যাবে। এইজন্যেই তার রঙ, এইজন্যেই তার গন্ধ। মৌমাছির পদরেণপাতে যেমনি তার পপজন্ম সফলতালাভের উপক্ৰম করে, অমনি সে আপনার রঙিন পাতা খসিয়ে ফেলে, আপনার মধ্যগন্ধ নির্মমভাবে বিসজন দেয়; তার শৌখিনতার সময়মাত্র নেই, সে অত্যন্ত ব্যস্ত। প্রকৃতির বাহিরবাড়িতে কাজের কথা ছাড়া আর অন্য কথা নেই। সেখানে কুড়ি ফলের দিকে, ফল ফলের দিকে, ফল বীজের দিকে, বীজ গাছের দিকে হন হন করে ছটে চলেছে—যেখানে একটা বাধা পায় সেখানে আর মাপ নেই, সেখানে কোনো কৈফিয়ত কেউ গ্রাহ্য করে না,