পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২০৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শ্রাবণসন্ধ্যা S४१ সেখানেই তার কপালে ছাপ পড়ে যায় নামঞ্জর, তখনি বিনা বিলম্বে খসে ঝরে শকিয়ে সরে পড়তে হয়। প্রকৃতির প্রকাণ্ড আপিসে অগণ্য বিভাগ, অসংখ্য কাজ। স্কুমার ঐ ফলটিকে যে দেখছ, অত্যন্ত বাবর মতো গায়ে গন্ধ মেখে রঙিন পোশাক পরে এসেছে, সেও সেখানে রৌদ্রে জলে মজরি করবার জন্যে এসেছে, তাকে তার প্রতি মহাতের হিসাব দিতে হয়—বিনা কারণে গায়ে হাওয়া লাগিয়ে যে একটা দোলা খাবে, এমন এক পলকও তার সময় নেই। কিন্তু, এই ফলটিই মানষের অন্তরের মধ্যে যখন প্রবেশ করে তখন তার কিছমাত্র তাড়া নেই, তখন সে পরিপণ অবকাশ মতিমান। এই একই জিনিস বাইরে প্রকৃতির মধ্যে কাজের অবতার, মানষের অন্তরের মধ্যে শান্তি ও সৌন্দর্যের পণ প্রকাশ। তখন বিজ্ঞান আমাদের বলে, তুমি ভুল বঝছ—বিশবরহমাণ্ডে ফলের একমাত্র উদ্দেশ্য কাজ করা; তার সঙ্গে সৌন্দৰ্য-মাধার্যের যে অহেতুক সবন্ধ তুমি পাতিয়ে বসেছ, সে তোমার নিজের পাতানো। আমাদের হদয় উত্তর করে, কিছমাত্র ভুল বুঝি নি। ঐ ফলটি কাজের পরিচয়পত্র নিয়ে প্রকৃতির মধ্যে প্রবেশ করে, আর সৌন্দয্যের পরিচয়পত্র নিয়ে আমার বারে এসে আঘাত করে; এক দিকে আসে বন্দীর মতো, আর-এক দিকে আসে মন্ত বরপে–এর একটা পরিচয়ই যে সত্য আর অন্যটা সত্য নয়, এ কথা কেমন করে মানব। ঐ ফলটি গাছপালার মধ্যে অনবচ্ছিন্ন কার্যকারণসত্রে ফটে উঠেছে এ কথাটাও সত্য, কিন্তু সে তো বাহিরের সত্য— আর অন্তরের সত্য হচ্ছে : আনন্দান্ধোব খলিমানি ভূতানি জায়ন্তে। ফল মধুকরকে বলে, তোমার ও আমার প্রয়োজনের ক্ষেত্রে তোমাকে আহবান করে আনব বলে আমি তোমার জন্যেই সেজেছি। আবার মানুষের মনকে বলে, আনন্দের ক্ষেত্রে তোমাকে আহদান করে আনব বলে আমি তোমার জন্যেই সেজেছি। মধ্যকর ফলের কথা সপণ বিশ্বাস করে কিছমাত্র ঠকে নি; আর মানুষের মনও যখন বিশ্বাস করে তাকে ধরা দেয় তখন দেখতে পায়, ফলে তাকে মিথ্যা বলে নি। ফল যে কেবল বনের মধ্যেই কাজ করছে তা নয়, মানষের মনের মধ্যেও তার যেটুকু কাজ তা সে বরাবর করে আসছে। আমাদের কাছে তার কাজটা কী। প্রকৃতির দরজার যে ফলকে যথাঋতুতে যথাসময়ে মঙ্গরের মতো হাজার দিতে হয়, আমাদের হৃদয়ের ঘারে সে রাজদতের মতো উপস্থিত হয়ে থাকে।