পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২০৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


>>bs সংকলন সীতা যখন রাবণের ঘরে একা বসে কাঁদছিলেন তখন একদিন যে দত কাছে এসে উপস্থিত হয়েছিল সে রামচন্দ্রের আংটি সঙ্গে করে এনেছিল। এই আংটি দেখেই সাঁতা তখনি বুঝতে পেরেছিলেন, এই দতেই তাঁর প্রিয়তমের কাছ থেকে এসেছে; তখনি তিনি বুঝলেন, রামচন্দ্র তাঁকে ভোলেন নি, তাঁকে উদ্ধার করে নেবেন বলেই তাঁর কাছে এসেছেন। ফলও আমাদের কাছে সেই প্রিয়তমের দত হয়ে আসে। সংসারের সোনার লঙ্কায় রাজভোগের মধ্যে আমরা নিবাসিত হয়ে আছি, রাক্ষস আমাদের কেবলি বলছে, আমি তোমার পতি, আমাকেই ভজনা করো। কিন্তু সংসারের পারের খবর নিয়ে আসে ঐ ফল। সে চুপি চুপি আমাদের কানে কানে এসে বলে, ‘আমিই এসেছি, আমাকে তিনি পাঠিয়েছেন। আমি সেই সন্দেরের দত, আমি সেই আনন্দময়ের খবর নিয়ে এসেছি। এই বিচ্ছিন্নতার দ্বীপের সঙ্গে তাঁর সেতু বাঁধা হয়ে গেছে, তিনি তোমাকে এক মাহতের জন্যে ভোলেন নি, তিনি তোমাকে উদ্ধার করবেন। তিনি তোমাকে টেনে নিয়ে আপন করে নেবেন। মোহ তোমাকে এমন করে চিরদিন বোধে রাখতে পারবে না।" যদি তখন আমরা জেগে থাকি তো তাকে বলি, “তুমি যে তাঁর দত তা আমরা জানব কী করে। সে বলে, এই দেখো আমি সেই সন্দেরের আংটি নিয়ে এসেছি। এর কেমন রঙ, এর কেমন শোভা। তাই তো বটে। এ যে তাঁরই আংটি, মিলনের আংটি। আর-সমস্ত ভুলিয়ে তখনি সেই আনন্দময়ের আনন্দপশ আমাদের চিত্তকে ব্যাকুল করে তোলে। তখনি আমরা বঝতে পারি, এই সোনার লঙ্কাপরাঁই আমার সব নয়—এর বাইরে আমার মুক্তি আছে—সেইখানে আমার প্রেমের সাফল্য, আমার জীবনের চরিতার্থতা। প্রকৃতির মধ্যে মধুকরের কাছে যা কেবলমাত্র রঙ, কেবলমাত্র গন্ধ, কেবলমাত্র ক্ষধানিবত্তির পথ চেনবার উপায়চিহ্ন, মানুষের হৃদয়ের কাছে তাই সৌন্দয", তাই বিনা প্রয়োজনের আনন্দ। মানুষের মনের মধ্যে সে রঙিন কালিতে লেখা প্রেমের চিঠি নিয়ে আসে। তাই বলছিলাম, বাইরে প্রকৃতি যতই ভয়ানক ব্যস্ত, যতই একান্ত কেজো হোক-না, আমাদের হৃদয়ের মধ্যে তার একটি বিনা কাজের যাতায়াত আছে। সেখানে তার কামারশালার আগন আমাদের উৎসবের দীপমালা হয়ে দেখা দেয়, তার কারখানা-ঘরের কলশব্দ সংগীত হয়ে ধৰনিত হয়। বাইরে প্রকৃতির কাৰ্যকারুণের লোহার শব্থল ঝম ঝম করে, অন্তরে তার আনন্দের