পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২০৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


છે હજી છે অহেতুকতা সোনার তারে বীণাধৰনি বাজিয়ে তোলে। আমার কাছে এইটেই বড়ো আশ্চর্য ঠেকে—একই কালে প্রকৃতির এই দলই চেহারা, বন্ধনের এবং মন্তির; একই রপ-রস-শব্দ-গন্ধের মধ্যে এই দই সর, প্রয়োজনের এবং আনন্দের; বাহিরের দিকে তার চঞ্চলতা, অন্তরের দিকে তার শান্তি; একই সময়ে এক দিকে তার কম আর-এক দিকে তার ছটি; বাইরের দিকে তার তট, অন্তরের দিকে তার সমন্দ্র। এই-যে এই মহেতেই শ্রাবণের ধারাপতনে সন্ধ্যার আকাশ মুখরিত হয়ে উঠেছে, এ আমাদের কাছে তার সমস্ত কাজের কথা গোপন করে গেছে। প্রত্যেক ঘাসটির এবং গাছের প্রত্যেক পাতাটির অন্নপানের ব্যবস্থা করে দেবার জন্য সে যে অত্যন্ত ব্যস্ত হয়ে আছে, এই অন্ধকার সভায় আমাদের কাছে এ কথাটির কোনো আভাসমার সে দিচ্ছে না। আমাদের অন্তরের সন্ধ্যাকাশেও এই শ্রাবণ অত্যন্ত ঘন হয়ে নেমেছে, কিন্তু সেখানে তার আপিসের বেশ নেই; সেখানে কেবল গানের আসর জমাতে, কেবল লীলার আয়োজন করতে তার আগমন। সেখানে সে কবির দরবারে উপস্থিত। তাই ক্ষণে ক্ষণে মেঘমল্লারের সরে কেবলি করণ গান জেগে উঠছে— তিমির দিগভরি ঘোর যামিনী, অথির বিজরিক পতিয়া। বিদ্যাপতি কহে কৈসে গোঙায়লি হরি বিনে দিনরাতিয়া । প্রহরের পর প্রহর ধরে এই বাতাই সে জানাচ্ছে, ওরে, তুই যে বিরহিণী-- তুই বেচে আছিস কী করে! তোর দিনরাত্রি কেমন করে কাটছে! সেই চিরদিনরাত্রির হরিকেই চাই, নইলে দিনরারি অনাথ। সমস্ত আকাশকে কাঁদিয়ে তুলে এই কথাটা আজ আর নিঃশেষ হতে চাচ্ছে না। আমরা যে তাঁরই বিরহে এমন করে কাটাচ্ছি, এ খবরটা আমাদের নিতান্তই জানা চাই। কেননা, বিরহ মিলনেরই অঙ্গ। ধোঁয়া যেমন আগন জলার আরম্ভ, বিরহও তেমনি মিলনের আরম্ভ-উচ্ছদাস । খবর আমাদের দেয় কে। ঐ-যে তোমার বিজ্ঞান যাদের মনে করছে তারা প্রকৃতির কারাগারের কয়েদি, যারা পায়ে শিকল দিয়ে একজনের সঙ্গে আরএকজন বাঁধা থেকে দিনরাত্রি কেবল বোবার মতো কাজ করে যাচ্ছে—তারাই। যেই তাদের শিকলের শব্দ আমাদের হৃদয়ের ভিতরে গিয়ে প্রবেশ করে অমনি দেখতে পাই, এ-যে বিরহের বেদনাগান, এ-যে মিলনের আহদানসংগীত। যে-সব খবরকে কোনো ভাষা দিয়ে বলা যায় না, সে-সব খবরকে এরাই তো