পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২০৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Հ00 সংকলন চুপিচুপি বলে যায়, এবং মানুষ কবি সেই সব খবরকেই গানের মধ্যে কতকটা কথায় কতকটা সরে বেধে গাইতে থাকে— ভরা বাদর, মাহ ভাদর, শন্য মন্দির মোর। আজ কেবলি মনে হচ্ছে, এই যে বর্ষা, এ তো এক সন্ধ্যার বর্ষা নয়, এ যেন আমার সমস্ত জীবনের অবিরল শ্রাবণধারা। যতদর চেয়ে দেখি, আমার সমস্ত জীবনের উপরে সঙ্গীহীন বিরহসন্ধ্যার নিবিড় অন্ধকার—তারই দিগদিগন্তরকে ঘিরে অশ্রান্ত শ্রাবণের বর্ষণে প্রহরের পর প্রহর কেটে যাচ্ছে; আমার সমস্ত আকাশ ঝর ঝর করে বলছে—কৈসে গোঙায়বি হরি বিনে দিনরাতিয়া। তব এই অন্ধকারের, এই শ্রাবণের বকের মধ্যে একটি নিবিড় রস অত্যন্ত গোপনে ভরা রয়েছে; একটি কোন বিকশিত বনের সজল গন্ধ আসছে, এমন একটি অনির্বচনীয় মাধ্য যা যখনি প্রাণকে ব্যথায় কাঁদিয়ে তুলছে তখনি সেই বিদীর্ণ ব্যথার ভিতর থেকে অশ্রুসিক্ত আনন্দকে টেনে বের করে নিয়ে আসছে। বিরহসন্ধ্যার অন্ধকারকে যদি শধ্যে এই বলে কাঁদতে হত যে, কেমন করে তোর দিনরাত্রি কাটবে—তা হলে সমস্ত রস শকিয়ে যেত এবং আশার অঙ্কুর পর্যন্ত বীচত না; কিন্তু শুধ কেমন করে কাটবে নয় তো, কেমন করে কাটবে হরি বিনে দিনরাতিয়া। সেইজন্যে হরি বিনে কথাটাকে ঘিরে ঘিরে এত অবিরল অজস্র বর্ষণ। চিরদিনরাত্রি যাকে নিয়ে কেটে যাবে, এমন একটি চিরজীবনের ধন কেউ আছে—তাকে না পেয়েছি না-ই পেয়েছি, তব সে আছে, সে আছে--বিরহের সমসত বক্ষ ভরে দিয়ে সে আছে—সেই হাঁর বিনে কৈসে গোঙায়বি দিনরাতিয়া। এই জীবনব্যাপী বিরহের যেখানে আরম্ভ সেখানে যিনি, যেখানে অবসান সেখানে যিনি, এবং তারই মাঝখানে গভীরভাবে প্রচ্ছন্ন থেকে যিনি করণ সরের বাঁশ বাজাচ্ছেন, সেই হরি বিনে কৈসে গোঙায়বি भिनग्नाउिग्ना। ভার ১৩১৭