পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২০৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পাপের মাজনা আমাদের প্রার্থনা সকল সময়ে সত্য হয় না, অনেক সময়ে মাখের কথা হয়— কারণ, চারি দিকে অসত্যের দ্বারা পরিবত হয়ে থাকি বলে আমাদের বাণীতে সত্যের তেজ পৌছয় না। কিন্তু ইতিহাসের মধ্যে, জীবনের মধ্যে এমন একএকটি দিন আসে, যখন সমস্ত মিথ্যা এক মহতে দগ্ধ হয়ে গিয়ে এমনি একটি আলোক জেগে ওঠে যার সামনে সত্যকে অস্বীকার করবার উপায় থাকে না। তখনি এই কথাটি বারবার জাগ্রত হয় : বিশ্বানি দেব সবিতদরিতানি পরাসব। হে দেব, হে পিতা, বিশ্বপাপ মাজনা করো। আমরা তাঁর কাছে এ প্রাথনা করতে পারি না---আমাদের পাপ ক্ষমা করো; কারণ তিনি ক্ষমা করেন না, সহ্য করেন না। তাঁর কাছে এই প্রাথনো সত্য প্রাথনা—তুমি মাজনা করো। যেখানে যত-কিছু পাপ আছে, অকল্যাণ আছে, বারবার রক্তস্রোতের বারা, অগ্নিবন্টির বারা সেখানে তিনি মাজ’না করেন। যে প্রাথনা ক্ষমা চায় সে দলবলের ভাঁরর প্রার্থনা, সে প্রার্থনা তাঁর বারে গিয়ে পৌছবে না। আজ এই-যে যন্ধের আগন জনলেছে, এর ভিতরে সমস্ত মানুষের প্রাথ'নাই কে’দে উঠেছে ; বিশ্ববানি দরিতানি পরাসবে -বিশ্বপাপ মাজ’না করো। আজ যে রক্তস্রোত প্রবাহিত হয়েছে সে যেন ব্যথ না হয়, রক্সের বন্যায় যেন পঞ্জীভূত পাপ ভাসিয়ে নিয়ে যায়। যখনি পথিবীর পাপ তপোকার হয়ে উঠে তখনি তো তাঁর মাজ’নার দিন আসে। আজ সমস্ত পথিবী জুড়ে যে দহনযজ্ঞ হচ্ছে তার রদ্র আলোকে এই প্রার্থনা সত্য হোক : বিশ্ববানি দরিতানি পরাসব। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের মধ্যে আজ এই প্রার্থনা সত্য হয়ে উঠকে। আমরা প্রতিদিন সংবাদপত্রে টেলিগ্রাফে যে একট-আধট খবর পাই তার পশ্চাতে কী অসহ্য সব দুঃখ রয়েছে আমরা কি তা চিন্তা করে দেখি। যে হানাহানি হচ্ছে তার সমস্ত বেদনা কোনখানে গিয়ে লাগছে। ভেবে দেখো, কত পিতামাতা তাদের একমাত্র ধনকে হারাচ্ছে, কত সত্ৰী লামীকে হারাচ্ছে, কত ভাই ভাইকে হারাচ্ছে। এইজনাই তো পাপের আঘাত এত নিষ্ঠর; কারণ যেখানে বেদনাবোধ সবচেয়ে বেশি, যেখানে প্রীতি সবচেয়ে গভীর, পাপের আঘাত সেইখানেই যে গিয়ে বাজে। যার হদয় কঠিন, সে তো বেদনা অনুভব করে না। কারণ, সে যদি বেদনা পেত তবে পাপ এমন নিদারণে হতেই পারত না। যার হদয় কোমল, যার প্রেম গভীর, তাকেই সমস্ত বেদনা