পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২০৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পাপের মাজ’না Հ0Ծ জীবনের ধারা নিমল থাকবে কেমন করে, প্রাণবান হয়ে উঠবে কেমন করে। ওরে তপস্বী, তপস্যায় প্রবত্ত হতে হবে, সমস্ত জীবনকে আহুতি দিতে হবে, তবেই যদভদ্রং তৎ—যা ভদ্র তাই—আসবে! ওরে তপস্বী, দুঃসহ দভ'র দুঃখভারে তোমার হদয় একেবারে নত হয়ে যাক, তাঁর চরণে গিয়ে পৌছোক। নমস্তেহস্তু। বলো, পিতা, তুমি যে আছ সে কথা এমনি আঘাতের মধ্য দিয়ে প্রচার করো। তোমার প্রেম নিষ্ঠর; সেই নিষ্ঠর প্রেম তোমার জাগ্রত হয়ে সব অপরাধ দলন করকে। পিতা নো বোধি—আজই তো সেই উদবোধনের দিন। আজ পথিবীর প্রলয়দাহের রন্দ্র আলোকে, পিতা, তুমি দাঁড়িয়ে আছ। প্রলয়-হাহাকারের উধের স্তপোকার পাপকে দগধ করে সেই দহনদীতিতে তুমি প্রকাশ পাচ্ছ, তুমি জেগে রয়েছ। তুমি আজ ঘামতে দেবে না; তুমি আঘাত করছ প্রত্যেকের জীবনে কঠিন আঘাত। যেখানে প্রেম আছে জাগক, যেখানে কল্যাণের বোধ আছে জাগক—সকলে আজ তোমার বোধে উদবোধিত হয়ে উঠকে। এই এক প্রচণ্ড আঘাতের স্বারা তুমি সকল আঘাতকে নিরস্ত করো। সমস্ত বিশ্বের পাপ হাদয়ে হৃদয়ে ঘরে ঘরে দেশে দেশে পঞ্জীভূত—তুমি আজ সেই পাপ মাজনা করো, দুঃখের বারা মাজনা করো, রক্তস্রোতের দ্বারা মাজ’না করো, অগ্নিবটির বারা মাজনা করো। এই প্রাথনা, সমস্ত মানবচিত্তের এই প্রাথ"না, আজ আমাদের প্রত্যেকের হৃদয়ে জাগ্রত হোক—বিশ্ববানি দরিতানি পরাসব-বিশ্বপাপ মাজনা করো। এই প্রাথনাকে সত্য করতে হবে, শচি হতে হবে, সমস্ত হাদয়কে মাজনা করতে হবে। আজ সেই তপস্যার আসনে, পাজার আসনে উপবিষ্ট হও । যে পিতা সমস্ত মানবসন্তানের দুঃখ গ্রহণ করছেন, যাঁর বেদনার অন্ত নেই, প্রেমের অন্ত নেই, যাঁর প্রেমের বেদনা উদবেল হয়ে উঠেছে, তাঁর সম্মুখে উপবিষ্ট হয়ে সেই তাঁর প্রেমের বেদনাকে আমরা সকলে মিলে গ্রহণ করি। ১ ভাদ্র ১৩২১ S8