পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শিক্ষার বাহন S& আমাদের গায়ের কাপড়ের অনেকটা অংশ তাতির তাঁতের চেয়ে আকাশের সবকিরণেই বোনা হইতেছে; আহারের যে অংশটা দেহের উত্তাপসঞ্চারের জন্য তার অনেকটার বরাত পাকশালার ও পাকযন্ত্রের পরে নয়, দেবতার পরে। দেশের প্রাকৃতিক এই সযোগ জীবনযাত্রায় খাটাইয়া আমাদের স্বভাবটা একরকম দাঁড়াইয়া গেছে—শিক্ষাব্যবস্থায় সেই সবভাবকে অমান্য করিলে বিশেষ লাভ আছে এমন তো আমার মনে হয় না। সত্যকে গভীর করিয়া দেখিলে দেখা যায়, উপকরণের একটা সীমা আছে যেখানে অমতের সঙ্গে তার বিরোধ বাধে। মেদ যেখানে প্রচুর, মজা সেখানে দব’ল। , দৈন্য জিনিসটাকে আমি বড়ো বলি না। সেটা তামসিক। কিন্তু অনাড়ম্বর, বিলাসীর ভোগসামগ্রীর চেয়ে দামে বেশি, তাহা সাত্ত্বিক। আমি সেই অনাড়ম্বরের কথা বলিতেছি যাহা পৰ্ণতারই একটি ভাব, যাহা আড়ম্বরের অভাবমাত্র নহে। সেই ভাবের যেদিন আবিভাব হইবে সেদিন সভ্যতার আকাশ হইতে বস্তুকুয়াশার বিস্তর কলষে দেখিতে দেখিতে কাটিয়া যাইবে। সেই ভাবের অভাব আছে বলিয়া যে-সব জিনিস প্রত্যেক মানষের পক্ষে একান্ত আবশ্যক তাহা দম"ল্য ও দলভ হইতেছে; গানবাজনা, আহারবিহার, আমোদ জটিল, সমস্তই মানুষের বাহিরের ও ভিতরের প্রভূত জায়গা জড়িয়া বসে। এই বোঝার অধিকাংশই অনাবশ্যক—এই বিপলে ভার বহনে মানুষের জোর প্রকাশ পায় বটে, ক্ষমতা প্রকাশ পায় না—এইজন্য বর্তমান সভ্যতাকে যে দেবতা বাহির হইতে দেখিতেছেন তিনি দেখিতেছেন, ইহা অপট দৈত্যের সাঁতার দেওয়ার মতো, তার হাত-পা ছোঁড়ায় জল ঘলাইয়া ফেনাইয়া উঠিতেছে—সে জানেও না এত বেশি হসিফাঁস করার যথার্থ প্রয়োজন নাই। মশকিল এই যে দৈত্যটার দঢ় বিশ্বাস যে, প্রচণ্ড জোরে হাত-পা ছোঁড়াটারই একটা বিশেষ মাল্য আছে। যেদিন পণেতার সরল সত্য সভ্যতার অন্তরের মধ্যে আবিভূত হইবে সেদিন পশ্চিমের মৈত্রেয়ীকেও বলিতে হইবে, যেনাহং নামতা স্যামা কিমহং তেন কুযাম । শিক্ষার জন্য আমরা আবদার করিয়াছি, গরজ করি নাই। শিক্ষাবিস্তারে আমাদের গা নাই। তার মানে, শিক্ষার ভোজে নিজেরা বসিয়া যাইব, পাতের প্রসাদটকু পর্যন্ত আর-কোনো ক্ষধিত পায় বা না-পায় সেদিকে খেয়ালই নাই। বিদ্যাকিস্তারের কথাটা যখন ঠিকমতো মন দিয়া দেখি তখন তার সবপ্রধান বাধাটা এই দেখিতে পাই যে, তার বাহনটা ইংরেজি। বিদেশী মাল