পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২১৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


&0Ꮡ সংকলন বামে চষা মাঠ; সাদা সাদা ভাঙা-ভাঙা পাথরের টুকরো চষা মাটির মধ্যে মধ্যে উৎক্ষিত। দক্ষিণে সমুদ্র। সমুদ্রের একেবারে ধারেই এক-একটি ছোটো ছোটো শহর দেখা দিচ্ছে। চৰ্চচড়া-মুকুটিত সাদা ধবধবে নগরীটি একটি পরিপাটি তন্বী নাগরীর মতো কোলের কাছে সমদ্রদপণ রেখে নিজের মখে দেখে হাসছে। নগর পেরিয়ে আবার মাঠ। ভুট্টার খেত, আঙরের খেত, ফলের খেত, জলপাইয়ের বন; খেতগুলি খণ্ড প্রস্তরের বেড়া-দেওয়া। মাঝে মাঝে এক-একটি বাঁধা কাপ; দরে দরে দটো-একটা সঙ্গীহীন ছোটো সাদা বাড়ি। সযোস্তের সময় হয়ে এল। আমি কোলের উপর এক থোলো আঙর নিয়ে বসে বসে এক-আধটা করে মুখে দিচ্ছি। এমন মিষ্ট টসটসে সগন্ধ আঙর ইতিপবে কখনো খাই নি। মাথায় রঙিন রমাল বাঁধা ঐ ইতালিয়ান যাবতীকে দেখে আমার মনে হচ্ছে, ইতালীয়ানরা এখানকার আঙুরের গাচ্ছের মতো, অমনি একটি বন্ত-ভরা অজস্র সডোল সৌন্দর্য, যৌবনরসে অমনি উৎপণ এবং ঐ আঙুরেরই মতো তাদের মুখের রঙ—অতি বেশি সাদা নয়। ৮ সেপ্টেম্বর। কাল আড্রিয়াটিকের সমতল শ্ৰীহীন তাঁরভূমি দিয়ে আসছিলাম, আজ শস্যশ্যামলা লবাড়ির মধ্যে দিয়ে গাড়ি চলছে। চারিদিকে আঙর জলপাই ভুট্টা ও তুতের খেত। কাল যে আঙুরের লতা দেখা গিয়েছিল সেগুলো ছোটো ছোটো গমের মতো। আজ দেখছি, খেতময় লবা লবা কাঠি পোঁতা, তারই উপর ফলগচ্ছপণ দ্রাক্ষালতা লতিয়ে উঠেছে। রেলের লাইনের ধারে দ্রাক্ষাক্ষেত্রের প্রান্তে একটি ক্ষুদ্র কুটির; এক হাতে তারই একটি দয়ার ধরে এক হাত কোমরে দিয়ে একটি ইতালীয়ান যাবতী সকৌতুক কৃষ্ণনেত্রে আমাদের গাড়ির গতি নিরীক্ষণ করছে। অনতিদরে একটি ছোটো বালিকা একটা প্রখরশাঙ্গ প্রকাণ্ড গোরর গলার দড়িটি ধরে নিশ্চিন্ত মনে চরিয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে। দক্ষিণে বামে তুষাররেখাঙ্কিত সনীল পর্বতশ্রেণী দেখা দিয়েছে। বামে ঘনচ্ছায়া সিন্ধ অরণ্য। যেখানে অরণ্যের একটা বিচ্ছেদ পাওয়া যাচ্ছে সেইখানেই শস্যক্ষেত্র তরশ্রেণী ও পবীত -সমেত এক-একটা নব নব আশচষ* দশ্য খালে যাচ্ছে। পর্বতশৃঙ্গের উপর পরাতন দগশিখর, তলদেশে একএকটি ছোটো ছোটো গ্রাম। এইবার ফ্রান্স। দক্ষিণে এক জলস্রোত ফেনিয়ে ফেনিয়ে চলেছে। ফরাসী । জাতির মতো দ্রুত চঞ্চল উচ্ছসিত হাসাপ্রিয় কলভাষী। তার পবতীরে ফার-অরণ্য নিয়ে পাহাড় দাঁড়িয়ে আছে। চঞ্চলা নিঝরিণী বে’কে চুরে