পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২১৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


૨૪ O সংকলন প্রথমে লন্ডনের মধ্যে আমার একটি পাব পরিচিত বাড়ির বারে গিয়ে আঘাত করা গেল। যে দাসী এসে দরজা খালে দিলে তাকে চিনি নে। তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, আমার বন্ধ বাড়িতে আছেন কি না। সে বললে, তিনি এ বাড়িতে থাকেন না। জিজ্ঞাসা করলাম, কোথায় থাকেন। সে বললে, “আমি জানি নে, আপনারা ঘরে এসে বসন, আমি জিজ্ঞাসা করে আসছি। পবে যে ঘরে আমরা আহার করতুম সেই ঘরে গিয়ে দেখলাম, সমসত বদল হয়ে গেছে—সেখানে টেবিলের উপর খবরের কাগজ এবং বই, সে ঘর এখন অতিথিদের প্রতীক্ষাশালা হয়েছে। খানিকক্ষণ বাদে দাসী একটি কাডে-লেখা ঠিকানা এনে দিলে। আমার বন্ধ এখন লন্ডনের বাইরে কোনো-এক অপরিচিত পথানে থাকেন। নিরাশ হৃদয়ে আমরা সেই পরিচিত বাড়ি থেকে বেরলম। মনে কল্পনা উদয় হল, মৃত্যুর বহুকাল পরে আবার যেন পথিবীতে ফিরে এসেছি। আমাদের সেই বাড়ির দরজার কাছে এসে বারীকে জিজ্ঞাসা করলাম, সেই অমকে এখানে আছে তো ? বারী উত্তর করলে, না, সে অনেক দিন হল চলে গেছে।–চলে গেছে ? সেও চলে গেছে! আমি মনে করেছিলাম, কেবল আমিই চলে গিয়েছিলাম, পথিবী-সদ্ধ আর সবাই আছে। আমি চলে যাওয়ার পরেও সকলেই আপন আপন সময় অনুসারে চলে গেছে। তবে তো সেই-সমস্ত জানা লোকেরা আর কেউ কারো ঠিকানা খুজে পাবে না। জগতের কোথাও তাদের আর নিদিষ্ট মিলনের জায়গা রইল না। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভাবছি, এমন সময়ে বাড়ির কতা বেরিয়ে এলেন; জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি কে হে। আমি নমস্কার করে বললাম, আজ্ঞে, আমি কেউ না, আমি বিদেশী –কেমন করে প্রমাণ করব, এ বাড়ি আমার এবং আমাদের ছিল। একবার ইচ্ছে হল, অন্তঃপরের সেই বাগানটা দেখে আসি ; আমার সেই গাছগুলো কত বড়ো হয়েছে। আর সেই ছাতের উপরকার দক্ষিণমাখো কুঠরি, আর সেই ঘর এবং সেই ঘর এবং সেই আর-একটা ঘর। আর সেই-যে ঘরের সম্মখে বারাণ্ডার উপর ভাঙা টবে গোটাকতক জীণ গাছ ছিল—সেগুলো এত অকিঞ্চিৎকর যে হয়তো ঠিক তেমনি রয়ে গেছে, তাদের সরিয়ে ফেলতে কারো মনে পড়ে নি। আর বেশিক্ষণ কল্পনা করবার সময় পেলাম না। লন্ডনের সড়ঙ্গপথে যে পাতাল-বাপযান চলে, তাই অবলম্বন করে বাসায় ফেরবার চেষ্টা করা গেল। কিন্তু, পরিণামে দেখতে পেলাম, পথিবীতে সকল চেষ্টা সফল হয় না। আমরা দই ভাই তো গাড়িতে চড়ে বেশ নিশ্চিত বসে আছি: