পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২২২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ミ> 9 সংকলন তার পরে মেঘ, তার পরে সদি, তার পরে হচি, তার পরে শাল, কবল, বালাপোয, মোটা মোজা, পা কনকেন, হাত ঠাণ্ডা, মুখ নীল, গলা ভার-ভার এবং ঠিক তার পরেই দাজিলিং। আমার সেই বাক্স, সেই ব্যাগ, সেই বিছানা, সেই পটলি, মোটের উপর মোট, মটের উপর মটে। ব্রেক থেকে জিনিসপত্র দেখে নেওয়া, চিনে নেওয়া, মনটের মাথায় চাপানো, সাহেবকে রসিদ দেখানো, র সঙ্গে তক বিতক, জিনিস খুজে না পাওয়া এবং সেই হারানো জিনিস পনরুদ্ধারের জন্য বিবিধ বন্দোবস্ত করা, তার পরে বাড়ি যাওয়া। স্যাসত পতিসর, ১৮৯১। আমার বোট কাছারির কাছ থেকে অনেক দরে এনে একটি নিরিবিলি জায়গায় বেধেছি। আমি এখন যেখানে এসেছি এ জায়গায় অধিকন্তু মানষের মুখ দেখা যায় না। চারি দিকে কেবল মাঠ ধনু ধ করছে, মাঠের শস্য কেটে নিয়ে গেছে, কেবল কাটা ধানের গোড়াগুলিতে সমস্ত মাঠ আচ্ছন্ন। সমস্ত দিনের পর স্যাস্তের সময় এই মাঠে কাল একবার বেড়াতে বেরিয়েছিলাম। সদ্য ক্ৰমেই রক্তবর্ণ হয়ে একেবারে পথিবীর শেষ রেখার অন্তরালে অন্তহিত হয়ে গেল। চারি দিক কী-যে সন্দের হয়ে উঠল সে আর কী বলব। বহন্দরে একেবারে দিগন্তের শেষ প্রান্তে একটা গাছপালার ঘের-দেওয়া ছিল। সেখানটা এমন মায়াময় হয়ে উঠল, নীলেতে লালেতে মিশে এমন আবছায়া হয়ে এল, মনে হল—ঐখানে যেন সন্ধ্যার বাড়ি, ঐখানে গিয়ে সে আপনার রাঙা অচিলটি শিথিলভাবে এলিয়ে দেয়, আপনার সন্ধ্যাতারাটি যত্ন করে জালিয়ে তোলে, আপন নিভৃত নিজনতার মধ্যে সিদর পরে বধর মতো কার প্রতীক্ষায় বসে থাকে এবং বসে বসে পা দটি মেলে তারার মালা গাথে এবং গন গন বরে সবগুন রচনা করে। সমস্ত অপার মাঠের উপর একটি ছায়া পড়েছে—একটি কোমল বিষাদ, ঠিক আশ্রজেল নয়, একটি নিনিমেষ চোখের বড়ো বড়ো পল্লবের নীচে গভীর ছলছলে ভাবের মতো। আমার বাঁ পাশে ছোট্ট নদীটি দই ধারের উচু পাড়ের মধ্যে একেবেকে খুব অলপ দরেই দটিপথের বার হয়ে গেছে, জলে ঢেউয়ের রেখামাত্র ছিল না, কেবল সন্ধ্যার আভা অত্যন্ত মন্মষে হাসির মতো খানিকক্ষণের জন্যে লেগে ছিল। যেমন প্রকাণ্ড মাঠ তেমনি প্রকাণ্ড নিস্তব্ধতা ; কেবল একরকম পাখি আছে, তারা মাটিতে বাসা করে থাকে, সেই পাখি যত অন্ধকার হয়ে আসতে লাগল তত আমাকে তার নিরালা বাসার কাছে ক্ৰমিক আনাগোনা