পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২২৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ছিন্নপত্র ՀՏ Ջ মেয়ে তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশে যে এরকম ছাঁদের জনপদবধ দেখা যাবে এমন প্রত্যাশা করি নি। অবশেষে যখন যাত্রার সময় হল তখন দেখলাম, আমার সেই চুল-ছাঁটা, গোলগাল, হাতে-বালা-পরা, উজল-সরল-মুখশ্রী মেয়েটিকে নৌকোয় তুললে। বুঝলাম, বেচারা বোধ হয় বাপের বাড়ি থেকে স্বামীর ঘরে যাচ্ছে। নৌকো যখন ছেড়ে দিলে মেয়েরা ডাঙায় দাঁড়িয়ে চেয়ে রইল, দই-একজন অচিল দিয়ে ধীরে ধীরে নাক-চোখ মুছতে লাগল। একটি ছোটো মেয়ে, খাব এ’টে চুল বাঁধা, একটি বর্ষীয়সীর কোলে চড়ে তার গলা জড়িয়ে তার কাঁধের উপর মাথাটি রেখে নিঃশব্দে কাঁদতে লাগল। যে গেল সে বোধ হয় এই বেচারির দিদিমণি। এর পতুলখেলায় বোধ হয় মাঝে মাঝে যোগ দিত, বোধ হয় দন্টমি করলে মাঝে মাঝে সে একে ঢিপিয়েও দিত। সকালবেলাকার রৌদ্র এবং নদীতীর এবং সমস্ত এমন গভীর বিষাদে পণ বোধ হতে লাগল! সকালবেলাকার একটা অত্যন্ত হতাশবাস করণ রাগিণীর মতো। মনে হল, সমস্ত পৃথিবীটা এমন সন্দের অথচ এমন বেদনায় পরিপণ । এই অজ্ঞাত ছোটো মেয়েটির ইতিহাস আমার যেন অনেকটা পরিচিত হয়ে গেল। বিদায়কালে এই নেীকো ক'রে নদীর স্রোতে ভেসে যাওয়ার মধ্যে যেন আরো-একটা বেশি কর্ণা আছে। অনেকটা যেন মৃত্যুর মতো–তাঁর থেকে প্রবাহে ভেসে যাওয়া ; যারা দাঁড়িয়ে থাকে তারা আবার চোখ মছে ফিরে যায়, যে ভেসে গেল সে অদশ্য হয়ে গেল। জানি, এই গভীর বেদনাটুকু যারা রইল এবং যে গেল উভয়েই ভুলে যাবে, হয়তো এতক্ষণে অনেকটা লতে হয়ে গিয়েছে। বেদনাটুকু ক্ষণিক এবং বিস্ম্যুতিই চিরস্থায়ী; কিন্তু ভেবে দেখতে গেলে, এই বেদনাটুকুই বাসতবিক সত্য, বিস্মতি সত্য নয়। এক-একটা বিচ্ছেদ এবং এক-একটা মৃত্যুর সময় মানুষ সহসা জানতে পারে, এই ব্যথাটা কী ভয়ংকর সত্য। জানতে পারে যে, মানুষ কেবল ভ্রমব্রুমেই নিশিচন্ত থাকে। কেউ থাকে না--এবং সেইটে মনে করলে মানুষ আরো ব্যাকুল হয়ে ওঠে। কেবল যে থাকব না তা নয়, কারো মনেও থাকব না। পোস্টমাস্টার শাজাদপর, ২৯ জন ১৮৯২ । কালকের চিঠিতে লিখেছিলাম আজ অপরাহু সাতটার সময় কবি কালিদাসের সঙ্গে একটা এনগেজমেণ্ট করা যাবে। বাতিটি জালিয়ে, টেবিলের কাছে কেদারাটি টেনে, বইখানি হাতে, যখন বেশ প্রস্তুত হয়ে বসেছি, হেনকালে কবি কালিদাসের পরিবতে' এখানকার পোস্টমাস্টার এসে উপস্থিত। মত কবির চেয়ে একজন জীবিত Sd