পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২২৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


२२२ সংকলন গ্রাম্য সাহিত্য পতিসর, ১১ আগস্ট ১৮৯৩। অনেকগুলো বড়ো বড়ো বিলের মধ্যে দিয়ে আসতে হয়েছে। এই বিলগুলো ভারি অদভুত—কোনো আকার আয়তন নেই, জলে প্ৰথলে একাকার, পথিবী সমুদ্রগভ থেকে নতুন জেগে ওঠবার সময় যেমন ছিল। কোথাও কিছ কিনারা নেই—খানিকটা জল, খানিকটা মগনপ্রায় ধানখেতের মাথা, খানিকটা শেওলা এবং জলজ উদ্ভিদ ভাসছে ; পানকৌড়ি সাঁতার দিচ্ছে; জাল ফেলবার জন্যে বড়ো বড়ো বাঁশ পোঁতা, তারই উপর কটা রঙের বড়ো বড়ো চিল বসে আছে। বীপের মতো অতিদারে গ্রামের রেখা দেখা যাচ্ছে। যেতে যেতে হঠাৎ আবার খানিকটা নদী। দ্য ধারে গ্রাম, পাটের খেত এবং বাঁশের ঝাড়, আবার কখন যে সেটা বিস্তৃত বিলের মধ্যে মিলিয়ে যাচ্ছে বোঝবার জো নেই। ঠিক সবাস্তের কাছাকাছি সময় যখন একটি গ্রাম পেরিয়ে আসছিলাম, একটা লম্বা নৌকোয় অনেকগুলি ছোকরা ঝপ ঝপ করে দাঁড় ফেলছিল এবং সেই তালে গান গাচ্ছিল— যোবতি, ক্যান বা কর মন ভারী। পাবনা থাক্যে আন্যে দেব ট্যাকা দামের মোটরি। সথানীয় কবিটি যে ভাব অবলম্ববন করে সংগীত রচনা করেছেন আমরাও ও ভাবের ঢের লিখেছি, কিন্তু ইতরবিশেষ আছে। আমাদের যুবতী মন ভারী করলে তৎক্ষণাৎ জীবনটা কিবা নন্দনকানন থেকে পারিজাতটা এনে দিতে প্রস্তুত হই। কিন্তু এ অঞ্চলের লোক খুব সখে আছে বলতে হবে, অলপ ত্যাগস্বীকারেই যাবতীর মন পায়। মোটরি জিনিসটি কী তা বলা আমার সাধ্য নয়; কিন্তু তার দামটাও নাকি পাবেই উল্লেখ করা আছে; তাতেই বোঝা যাচ্ছে, খুব বেশি দম"ল্য নয়, এবং নিতান্ত অগম্য স্থান থেকেও আনতে হয় না। গানটা শুনে বেশ মজার লাগল—যাবতীর মন ভারী হলে জগতে যে আন্দোলন উপসিথত হয় এই বিলের প্রান্তেও তার একটা সংবাদ পাওয়া গেল। এ গানটি কেবল অস্থানেই হাস্যজনক, কিন্তু দেশকালপাত্রবিশেষে এর যথেস্ট সৌন্দয আছে ; আমার অজ্ঞাতনামা গ্রাম্য কবি-ভ্রাতার রচনাগুলিও এই গ্রামের লোকের সংখদঃখের পক্ষে নিতান্ত আবশ্যক-আমার গানগুলি সেখানে কম হাস্যজনক নয়।