পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৩০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ર ૨8 সংকলন আমার ঘরসংসার এবং আমার সন্ধাতারাটি আমার এই ঘরের গহলক্ষী— আমি কখন কাছারি থেকে ফিরে আসব এইজন্যে সে উত্তজবল হয়ে সেজে বসে আছে। তার কাছ থেকে এমন একটি স্নেহস্পশ পেতুম ! তখন নদীটি নিস্তব্ধ হয়ে থাকত, বাতাসটি ঠাণ্ডা, কোথাও কিছু শব্দ নেই, ভারি যেন একটা ঘনিষ্ঠতার ভাবে আমার সেই প্রশান্ত সংসারটি পরিপণ হয়ে থাকত। আমার সেই শিলাইদহে প্রতি সন্ধ্যায় নিস্তবধ অন্ধকারে নদী পার হওয়াটা খব পষ্টরপে প্রায়ই মনে পড়ে। ভোরের বেলায় প্রথম দষ্টিপাতেই শকতারাটি দেখে, তাকে আমার একটি বহুপরিচিত সহাস্য সহচরী না মনে করে থাকতে পারি নে; সে যেন একটি চিরজাগ্রত কল্যাণকামনার মতো ঠিক আমার নিদ্রিত মুখের উপর প্রফুল্ল স্নেহ বিকিরণ করতে থাকে। মেঘ ও রৌদ্র শিলাইদা, ২৭ জন ১৮৯৪ । গল্প লেখবার একটা সুখ এই যাদের কথা লিখব তারা আমার দিনরাত্রির সমস্ত অবসর একেবারে ভরে রেখে দেবে আমার একলা মনের সঙ্গী হবে, বর্ষার সময় আমার বন্ধ ঘরের সংকীর্ণতা দর করবে, এবং রৌদ্রের সময় পদ্মাতীরের উত্তজবল দশ্যের মধ্যে আমার চোখের পরে বেড়িয়ে বেড়াবে। আজ সকালবেলায় তাই গিরিবালা-নামনী উজলেশ্যামবণ একটি ছোটো অভিমানী মেয়েকে আমার কল্পনারাজ্যে অবতারণ করা গেছে। সবেমাত্র পাঁচটি লাইন লিখেছি এবং সে পাঁচ লাইনে কেবল এই কথা বলেছি যে, কাল ব্যটি হয়ে গেছে, আজ বষণ-অন্তে চঞ্চল মেঘ এবং চঞ্চল রৌদ্রের পরপর শিকার চলছে। হেনকালে পবসঞ্চিত বিন্দ বিন্দ বারিশীকরবষী তর-তলে গ্রামপথে উক্ত গিরিবালার আসা উচিত ছিল ; তা না হয়ে আমার বোটে আমলাবগের সমাগম হল, তাতে করে সম্প্রতি গিরিবালাকে কিছুক্ষণের জন্যে অপেক্ষা করতে হল। তা হোক, তব সে মনের মধ্যে আছে। আজ গিরিবালা অনাহত এসে উপস্থিত হয়েছেন; কাল বড়ো আবশ্যকের সময় তাঁর দোদুল্যমান বেণীর সচ্যগ্রভাগটুকুও দেখা যাবে না। কিন্তু, সে কথা নিয়ে আজ আন্দোলনের দরকার নেই। শ্ৰীমতী গিরিবালার তিরোধান-সম্ভাবনা থাকে তো থাক, আজ যখন তাঁর শভোগমন হয়েছে তখন সেটা আনন্দের বিষয় সন্দেহ নেই। এবারকার পত্রে অবগত হওয়া গেল যে, আমার ঘরের -..a৩মাটি ক্ষুদ্র ঠোঁট ফলিয়ে অভিমান করতে শিখেছে। আমি সে চিত্র বেশ দেখতে পাচ্ছি। তার সেই নরম নরম মাঠোর অচিড়ের জন্যে আমার মুখটা নাকটা তৃষাত"