পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৩৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


জীবনসমতি সমতির পটে জীবনের ছবি কে অকিয়া যায় জানি না। কিন্তু যেই অাঁকুক সে ছবিই অকে। অথাৎ, যাহা-কিছু ঘটিতেছে তাহার অবিকল নকল রাখিবার জন্য সে তুলি হাতে বসিয়া নাই। সে আপনার অভিরুচিঅনুসারে কত কী বাদ দেয়, কত কী রাখে। কত বড়োকে ছোটো করে, ছোটোকে বড়ো করিয়া তোলে। সে আগের জিনিসকে পাছে ও পাছের জিনিসকে আগে সাজাইতে কিছমাত্র বিধা করে না। বস্তুত, তাহার কাজই ছবি আঁকা, ইতিহাস লেখা নয়। কয়েক বৎসর পবে একদিন কেহ আমাকে আমার জীবনের ঘটনা জিজ্ঞাসা করাতে, একবার এই ছবির ঘরে খবর লইতে গিয়াছিলাম। মনে করিয়াছিলাম, জীবনবৃত্তান্তের দই-চারিটা মোটামুটি উপকরণ সংগ্ৰহ করিয়া ক্ষাত হইব। কিন্তু, দুবার খলিয়া দেখিতে পাইলাম, জীবনের সমতি জীবনের ইতিহাস নহে, তাহা কোন-এক অদশ্য চিত্রকরের স্বহস্তের রচনা। তাহাতে নানা জায়গায় যে নানা রঙ পড়িয়াছে তাহা বাহিরের প্রতিবিম্বা নহে, সে রঙ তাহার নিজের ভাণ্ডারের; সে রঙ তাহাকে নিজের রসে গলিয়া লইতে হইয়াছে, সতরাং পটের উপর যে ছাপ পড়িয়াছে তাহা আদালতে সাক্ষা দিবার কাজে লাগিবে না। এই সমতির মধ্যে এমন কিছু নাই যাহা চিরস্মরণীয় করিয়া রাখিবার যোগ্য। কিন্তু, বিষয়ের মযাদার উপরেই যে সাহিত্যের নিভার তাহা নহে; যাহা ভালো করিয়া অনুভব করিয়াছি তাহাকে অনুভবগম্য করিয়া তুলিতে পারিলেই মানুষের কাছে তাহার আদর আছে। নিজের সমতির মধ্যে যাহা চিত্ররপে ফটিয়া উঠিয়াছে তাহাকে কথার মধ্যে ফটাইতে পারিলেই তাহা সাহিত্যে পথান পাইলার যোগ্য। শিক্ষারম্ভ আমরা তিনটি বালক একসঙ্গে মানুষ হইতেছিলাম। আমার সঙ্গী দটি আমার চেয়ে দই বছরের বড়ো। তাঁহারা যখন গরমহাশয়ের কাছে পড়া আরম্ভ করিলেন আমারও শিক্ষা সেই সময়ে শব্যে হইল, কিন্তু সে কথা আমার মনেও নাই । কেবল মনে পড়ে, জল পড়ে, পাতা নড়ে। তখন করা খল প্রভৃতি বানানের তুফান কাটাইয়া সবেমাত্র কল পাইয়াছি। সেদিন পড়িতেছি, জল