পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৩৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


জীবনস্মতি ミ○> আমাদের বাড়ির ভিতরের ছাদের প্রাচীর আমার মাথা ছাড়াইয়া উঠিত। যখন একট বড়ো হইয়াছি এবং চাকরদের শাসন কিঞ্চিৎ শিথিল হইয়াছে, যখন বাড়িতে নতন বধ্য-সমাগম হইয়াছে এবং অবকাশের সঙ্গীরপে তাঁহার কাছে প্রশ্রয় লাভ করিতেছি, তখন এক-এক দিন মধ্যাহে সেই ছাদে আসিয়া উপস্থিত হইতাম। তখন বাড়িতে সকলের আহার শেষ হইয়া গিয়াছে; গহকমে ছেদ পড়িয়াছে; অন্তঃপর বিশ্রামে নিমগন ; মানসিক্ত শাড়িগুলি ছাতের কানিসের উপর হইতে ঝুলিতেছে ; উঠানের কোণে যে উচ্ছিষ্ট ভাত পড়িয়া আছে তাহারই উপর কাকের দলের সভা বসিয়া গেছে। সেই নিজন অবকাশে প্রাচীরের রন্ধের ভিতর হইতে চাহিয়া থাকিতাম—চোখে পড়িত, আমাদের বাড়ির ভিতরের বাগানপ্রান্তের নারিকেলশ্রেণী: তাহারই ফাঁক দিয়া দেখা যাইত সিঙ্গির বাগান', পল্লীর একটা পুকুর, এবং সেই পুকুরের ধারে যে তারা-গয়লানী আমাদের দুধ দিত তাহারই গোয়ালঘর; আরো দরে দেখা যাইত, তরমচড়ার সঙ্গে মিশিয়া কলিকাতা শহরের নানা আকারের ও নানা আয়তনের উচ্চনীচ ছাদের শ্রেণী মধ্যাহরেীদ্রে প্রখর শুভ্রতা বিচ্ছুরিত করিয়া পাবদিগন্তের পাডুবণ নীলিমার মধ্যে উধাও হইয়া চলিয়া গিয়াছে। সেইসকল অতিদীর বাড়ির ছাদে এক-একটা চিলেকোঠা উচু হইয়া থাকিত; মনে হইত, তাহারা যেন নিশ্চল তজনী তুলিয়া চোখ টিপিয়া আপনার ভিতরকার রহস্য আমার কাছে সংকেতে বলিবার চেষ্টা করিতেছে। ভিক্ষক যেমন প্রাসাদের বাহিরে দাঁড়াইয়া রাজভান্ডারের রন্ধ সিন্ধকেগলোর মধ্যে অসম্ভব রত্নমানিক কল্পনা করে, আমিও তেমনি ঐ অজানা বাড়িগুলিকে কত খেলা কত স্বাধীনতায় আগাগোড়া বোঝাই-করা মনে করিতাম তাহা বলিতে পারি না। মাথার উপরে আকাশব্যাপী খরদীপিত, তাহারই দরতম প্রান্ত হইতে চিলের সক্ষম তীক্ষ ডাক আমার কানে আসিয়া পেশছিত এবং সিঙ্গির বাগানের পাশের গলিতে দিবাসতে নিস্তব্ধ বাড়িগলার সম্মখে দিয়া পসারি সর করিয়া চাই, চুড়ি চাই, খেলেনা চাই হকিয়া যাইত—তাহাতে আমার সমস্ত মনটা উদাস করিয়া দিত। পেনেটির বাগান একবার কলিকাতায় ডেঙ্গজেদরের তাড়নায় আমাদের বহৎ পরিবারের কিয়দংশ পেনেটিতে ছাতুবাবদের বাগানে আশ্রয় লইল। আমরা তাহার মধ্যে छ्लिाभा । এই প্রথম বাহিরে গেলাম। গঙ্গার তীরভূমি যেন কোন পবিজন্মের