পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৩৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ミ○ミ সংকলন পরিচয়ে আমাকে কোলে করিয়া লইল । সেখানে চাকরদের ঘরটির সামনে গোটাকয়েক পেয়ারাগাছ। সেই ছায়াতলে বারান্দায় বসিয়া সেই পেয়ারাবনের অন্তরাল দিয়া গঙ্গার ধারার দিকে চাহিয়া আমার দিন কাটিত। প্রত্যহ প্রভাতে ঘমে হইতে উঠিবামার আমার কেমন মনে হইত, যেন দিনটাকে একখানি সোনালি-পাড়-দেওয়া নতন চিঠির মতো পাইলাম। লেফাফা খলিয়া ফেলিলে যেন কী অপব খবর পাওয়া যাইবে। পাছে একটুও কিছ লোকসান হয়, এই আগ্রহে তাড়াতাড়ি মুখ ধুইয়া বাহিরে আসিয়া চৌকি লইয়া বসিতাম। প্রতিদিন গঙ্গার উপর সেই জোয়ারভাঁটার আসা-যাওয়া, সেই কত রকম-রকম অপসরণ, সেই কোন্নগরের পারে শ্রেণীবদ্ধ বনামধকারের উপর বিদীণ বক্ষ সযোসতকালের অজস্র সবণশোণিত-পলাবন। এক-একদিন সকাল হইতে মেঘ করিয়া আসে; ও পারের গাছগুলি কালো; নদীর উপর কালো ছায়া; দেখিতে দেখিতে সশব্দ ব্যষ্টির ধারায় দিগন্ত ঝাপসা হইয়া যায়, ও পারের তটরেখা যেন চোখের জলে বিদায় গ্রহণ করে, নদী ফলিয়া ফলিয়া উঠে এবং ভিজা হাওয়া এ পারের ডালপালাগলার মধ্যে যা-খাঁশি-তাই করিয়া বেড়ায়। কড়ি-বরগা-দেয়ালের জঠরের মধ্য হইতে বাহিরের জগতে যেন নতন জন্মলাভ করিলাম। সকালবেলায় এখো-গড় দিয়া যে বাসি লাচি খাইতাম, নিশ্চয়ই সবগলোকে ইন্দ্র যে অমত খাইয়া থাকেন তাহার সঙ্গে তার সবাদের বিশেষ কিছু পাথক্য নাই। কারণ, অমত জিনিসটা রসের মধ্যে নাই, রসবোধের মধ্যেই আছে, এইজন্য যাহারা সেটাকে খোঁজে তাহারা সেটাকে পায়ই না। যেখানে আমরা বসিতাম তাহার পিছনে প্রাচীর দিয়া ঘেরা ঘাট-বাঁধানো একটা খিড়কির পকূর, ঘাটের পাশেই একটা মস্ত জামরুল গাছ; চারি ধারেই বড়ো বড়ো ফলের গাছ ঘন হইয়া দাঁড়াইয়া ছায়ার আড়ালে পাকরিণীটির আব্র রচনা করিয়া আছে। এই ঢাকা, ঘেরা, ছায়া-করা, সংকুচিত একটুখানি খিড়কির বাগানের ঘোমটা-পরা সৌন্দয আমার কাছে ভারি মনোহর ছিল। সম্মখের উদার গঙ্গাতীরের সঙ্গে এর কতই তফাত; এ যেন ঘরের বধ । কোণের আড়ালে, নিজের হাতের লতাপাতা-অাঁকা সবুজ রঙের কাঁথাটি মেলিষা দিয়া মধ্যাহ্নের নিভৃত অবকাশে মনের কথাটিকে মদগঞ্জেনে ব্যক্ত করিতেছে। সেই মধ্যাহ্নেই অনেকদিন জামরুল গাছের ছায়ায়, ঘাটে একলা বসিয়া, পাকুরের গভীর তলাকার মধ্যে যক্ষপরেীর ভয়ের রাজ্য কল্পনা করিয়াছি। বাংলাদেশের পাড়াগটিাকে ভালো করিয়া দেখিবার জন্য অনেক দিন হইতে