পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৪২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ミ○○ সংকলন নতন গান সব-কটি একে একে গাহিতে বলিলেন। কোনো কোনো গান দবারও গাহিতে হইল। গান গাওয়া শেষ হইল। তখন তিনি বলিলেন, ‘দেশের রাজা যদি দেশের ভাষা জানিত ও সাহিত্যের আদর বঝিত তবে কবিকে তো তাহারা পরস্কার দিত। রাজার দিক হইতে যখন তাহার কোনো সম্ভাবনা নাই তখন আমাকেই সে কাজ করিতে হইবে।” এই বলিয়া তিনি একখানি পাঁচশো টাকার চেক আমার হাতে দিলেন। অমৃতসরে মাসখানেক ছিলাম। সেখান হইতে চৈত্রমাসের শেষে ডালহৌসি পাহাড়ে যাত্রা করা গেল। অমৃতসরে মাস আর কাটিতেছিল না। হিমালয়ের আহান আমাকে অস্থির করিয়া তুলিতেছিল। যখন ঝাঁপানে করিয়া পাহাড়ে উঠতেছিলাম তখন পবতের উপত্যকাঅধিতাকা-দেশে নানাবিধ চৈতালি ফসলে স্তরে স্তরে পঙক্তিতে পঙক্তিতে সৌন্দর্যের আগন লাগিয়া গিয়াছিল। আমরা প্রাতঃকালেই দধরটি খাইয়া বাহির হইতাম এবং অপরাহুে ডাকবাংলায় আশ্রয় লইতাম। সমস্ত দিন আমার দই চোখের বিরাম ছিল না, পাছে কিছ-একটা এড়াইয়া যায় এই আমার ভয়। যেখানে পাহাড়ের কোনো কোণে পথের কোনো বাঁকে পল্লবভারাচ্ছন্ন বনস্পতির দল নিবিড় ছায়া রচনা করিয়া দাঁড়াইয়া আছে, এবং একটি ঝরনার ধারা সেই ছায়াতল দিয়া শৈবালাচ্ছন্ন কালো পাথরগলার গা বাহিয়া ঘন শীতল অন্ধকারের নিভৃত নেপথ্য হইতে কুল কুল করিয়া ঝরিয়া পড়িতেছে সেখানে ঝাঁপানিরা ঝাঁপান নামাইয়া বিশ্রাম করিত। আমি লাখভাবে মনে করিতাম, এ-সমস্ত জায়গা আমাদিগকে ছাড়িয়া যাইতে হইতেছে কেন । এইখানে থাকিলেই তো হয়। ডাকবাংলায় পৌছিলে পিতৃদেব বাংলার বাহিরে চৌকি লইয়া বসিতেন। সন্ধ্যা হইয়া আসিলে পবতের সবচ্ছ আকাশে তারাগলি আশ্চর্য সসপন্ট হইয়া উঠিত এবং পিতা আমাকে গ্রহ-তারকা চিনাইয়া দিয়া জ্যোতিক সম্বন্ধে আলোচনা করিতেন। বক্লোটায় আমাদের বাসা একটি পাহাড়ের সর্বোচ্চ চড়ায় ছিল। যদিও তখন বৈশাখ মাস, কিন্তু শীত অত্যন্ত প্রবল। এমনকি, পথের যে অংশে রৌদ্র পড়িত না সেখানে তখনো বরফ গলে নাই। কোনো বিপদ আশঙ্কা করিয়া, আপন ইচ্ছায় পাহাড়ে ভ্রমণ করিতে পিতা আমাকে একদিনও বাধা দেন নাই। আমাদের বাসার নিম্নবতী এক অধিত্যকায়