পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৪৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


জীবন মতি २8७ ছেলেবেলায় রাজনারায়ণবাবর সঙ্গে যখন আমাদের পরিচয় ছিল তখন সকল দিক হইতে তাঁহাকে বুঝিবার শক্তি আমাদের ছিল না। তাঁহার মধ্যে নানা বৈপরীত্যের সমাবেশ ঘটিয়াছিল। তখনি তাঁহার চুলদাড়ি প্রায় সম্পণে পাকিয়াছে কিন্তু আমাদের দলের মধ্যে বয়সে সকলের চেয়ে যে ব্যক্তি ছোটো তাহার সঙ্গেও তাঁহার বয়সের কোনো অনৈক্য ছিল না। তাঁহার বাহিরের প্রবীণতা শত্র মোড়কটির মতো হইয়া তাঁহার অন্তরের নবীনতাকে চিরদিন তাজা করিয়া রাখিয়া দিয়াছিল। এমনকি, প্রচুর পাণ্ডিত্যেও তাঁহার কোনো ক্ষতি করিতে পারে নাই, তিনি একেবারেই সহজ মানুষটির মতোই ছিলেন। জীবনের শেষ পর্যন্ত অজস্র হাসোচ্ছাস কোনো বাধাই মানিল না—না বয়সের গাম্ভীৰ্য, না অস্বাস্থ্য, না সংসারের দঃখকষ্ট, ন মেধয়া ন বহনা শ্রতেন, কিছুতেই তাঁহার হাসির বেগকে ঠেকাইয়া রাখিতে পারে নাই। এক দিকে তিনি আপনার জীবন এবং সংসারটিকে ঈশ্বরের কাছে সম্পণে নিবেদন করিয়া দিয়াছিলেন, আর-এক দিকে দেশের উন্নতিসাধন করিবার জন্য তিনি সবাদাই কতরকম সাধ্য ও অসাধ্য ল্যান করিতেন তাহার আর অন্ত নাই। inমড়র্কমের তিনি প্রিয় ছাত্র, ইংরেজি বিদ্যাতেই বাল্যকাল হইতে তিনি মানুষ, কিন্তু তব অনভ্যাসের সমসত বাধা ঠেলিয়া ফেলিয়া বাংলাভাষা ও সাহিত্যের মধ্যে পণ উৎসাহ ও শ্রদ্ধার বেগে তিনি প্রবেশ করিয়াছিলেন। এ দিকে তিনি মাটির মানুষ, কিন্তু তেজে একেবারে পরিপণ ছিলেন। দেশের প্রতি তাঁহার যে প্রবল অনুরাগ সে তাঁহার সেই তেজের জিনিস। দেশের সমস্ত খবতা দীনতা অপমানকে তিনি দগধ করিয়া ফেলিতে চাহিতেন। তাঁহার দুই চক্ষ জলিতে থাকিত, তাঁহার হদয় দীপ্ত হইয়া উঠিত, উৎসাহের সঙ্গে হাত নাড়িয়া আমাদের সঙ্গে মিলিয়া তিনি গান ধরিতেন—গলায় সরে লাগকে আর না লাগকে সে তিনি খেয়ালই করিতেন না— একসত্রে বধিয়াছি সহস্রটি মন, এক কাযে স’পিয়াছি সহস্র জীবন। এই ভগবভক্ত চির-বালকটির তেজঃপ্রদীপ্ত হাস্যমধরে জীবন রোগে শোকে অপরিলান। তাঁহার পবিত্র নবীনতা আমাদের দেশের মতিভান্ডারে সমাদরের সহিত রক্ষা করিবার সামগ্রী তাহাতে সন্দেহ নাই। বিলাত লন্ডনে বাসাটা ছিল রিজেন্ট উদ্যানের সম্মখেই। তখন ঘোরতর শীত। সম্মুখের বাগানের গাছগলায় একটিও পাতা নাই, বরফে ঢাকা অাঁকাবাঁকা