পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শিক্ষার বাহন ১৯ নিয়ম অনুসারে মানুষের সমরণশক্তির মহলটা ছাপাখানায় অধিকার করিয়াছে। অতএব যারা বই মুখস্থ করিয়া পাস করে তারা অসভ্যরকমে চুরি করে অথচ সভ্যতার যুগে পর্যকার পাইবে তারাই ? যাই হোক, ভাগ্যক্রমে যারা পার হইল তাদের বিরুদ্ধে নালিশ করিতে চাই না। কিন্তু যারা পার হইল না তাদের পক্ষে হাবড়ার পলটাই না-হয় দ্য-ফাঁক হইল, কিন্তু কোনোরকমের সরকারি খেয়াও কি তাদের কপালে জটিবে না। স্টীমার, না হয় তো পানসি ? ভালোমতো ইংরেজি শিখিতে পারিল না এমন ঢের ঢের ভালো ছেলে বাংলাদেশে আছে। তাদের শিখিবার আকাঙ্ক্ষা ও উদ্যমকে একেবারে গোড়ার দিকেই আটক করিয়া দিয়া দেশের শক্তির কি প্রভূত অপব্যয় করা হইতেছে না। আমার প্রশন এই, প্রেপারেটরি ক্লাস পর্যন্ত একরকম পড়াইয়া তার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের মোড়টার কাছে যদি ইংরেজি বাংলা দটো বড়ো রাস্তা খলিয়া দেওয়া যায় তা হইলে কি নানাপ্রকারে সুবিধা হয় না। এক তো ভিড়ের চাপ কিছু কমেই, দ্বিতীয়ত শিক্ষার বিস্তার অনেক বাড়ে। ইংরেজি রাস্তাটার দিকেই বেশি লোক ঝ:কিবে তা জানি ; এবং দটো রাস্তার চলাচল ঠিক সহজ অবস্থায় পে’ছিতে কিছু সময়ও লাগিবে। রাজভাষার দর বেশি সতরাং আদরও বেশি! কেবল চাকরির বাজারে নয়, বিবাহের বাজারেও বরের মাল্যবধি ঐ রাস্তাটাতেই। তাই হোক, বাংলা ভাষা অনাদর সহিতে রাজি, কিন্তু অকৃতাৰ্থতা সহ্য করা কঠিন। ভাগ্যমতের ছেলে ধাত্রীসতন্যে মোটাসোটা হইয়া উঠক-না কিন্তু গরিবের ছেলেকে তার মাতৃস্তন্য হইতে বঞ্চিত করা কেন। জুমি জানি তক এই উঠিবে(তুমি বাংলাভার যোগে উচ্চশিক্ষা দিতে চাও, কিন্তু বাংলাভাষায় উচুদরের শিক্ষাগ্রন্থ কই। নাই সে কথা মানি, কিন্তু শিক্ষা না চলিলে শিক্ষাগ্রন্থ হয় কী উপায়ে। শিক্ষাগ্রন্থ বাগানের গাছ নয় যে শৌখিন লোকে শখ করিয়া তার কেয়ারি করিবে, কিংবা সে আগাছাও নয় যে মাঠে বাটে নিজের পলিকে নিজেই কণ্টকিত হইয়া উঠিবে। বাংলায় উচ্চ আগের শিক্ষাগ্রন্থ বাহির হইতেছে না এটা যদি আক্ষেপের বিষয় হয় তবে তার প্রতিকারের একমাত্র উপায় বিশববিদ্যালয়ে বাংলায় উচ্চ অঙ্গের শিক্ষা প্রচলন করা। বঙ্গসাহিত্যপরিষং কিছুকাল হইতে এই কাজের গোড়াপত্তনের চেষ্টা করিতেছেন। পরিভাষা- রচনা ও সংকলনের ভার পরিষং লইয়াছেন, কিছু কিছল করিয়াওছেন। তাঁদের কাজ ঢিমা চালে চলিতেছে বা