পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৫১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


জীবনস্মতি Հ8G։ হইত। যদিও বেশ বুঝিতেছিলাম, ইহার বারা আমার পড়ার সাহায্য প্রায় কিছুই হইবে না, তবুও কোনোমতেই ইহাকে বিদায় করিতে আমার মন সরিল না। যে কয়দিন সে বাসায় ছিলাম এমনি করিয়া লাটিন পড়িবার ছল করিয়াই কাটিল। বিদায় লইবার সময় যখন তাঁহার বেতন চুকাইতে গেলাম আমি তো কোনো কাজই করি নাই, আমি তোমার কাছ হইতে বেতন লইতে পারিব না। আমি তাঁহাকে অনেক কস্টে বেতন লইতে রাজি করিয়াছিলাম । আমার এই লাটিনশিক্ষক যদিচ তাঁহার মতকে আমার সমক্ষে প্রমাণসহ উপস্থিত করেন নাই তব তাঁহার সে কথা আমি এ পর্যন্ত অবিশ্বাস করি না। এখনো আমার এই বিশ্ববাস যে, সমস্ত মানষের মনের সঙ্গে মনের একটি অখন্ড গভীর যোগ আছে: তাহার এক জায়গায় যে শক্তির ক্লিয়া ঘটে অন্যত্র গঢ়ভাবে তাহা সংক্রামিত হইয়া থাকে। সকট-পরিবার এবারে ডাক্তার স্কট নামে একজন ভদ্র গহন্থের ঘরে আমার আশ্রয় জটিল । একদিন সন্ধ্যার সময় বাক্সতোরঙ্গ লইয়া তাঁহাদের ঘরে প্রবেশ করিলাম। বাড়িতে কেবল পঙ্ককেশ ডাক্তার, তাঁহার গহিণী ও তাঁহাদের বড়ো মেয়েটি আছেন। ছোটো দইজন মেয়ে ভারতবষীয় অতিথির আগমন-আশংকায় অভিভূত হইয়া কোনো আত্মীয়ের বাড়ি পলায়ন করিয়াছেন। বোধ করি যখন তাঁহারা সংবাদ পাইলেন, আমার দ্বারা কোনো সাংঘাতিক বিপদের আশন সম্ভাবনা নাই, তখন তাঁহারা ফিরিয়া আসিলেন। অতি অলপদিনের মধ্যেই আমি ইহাদেয় ঘরের লোকের মতো হইয়া গেলাম। মিসেস স্কট আমাকে আপন ছেলের মতোই স্নেহ করিতেন। তাঁহার মেয়েরা আমাকে যেরাপ মনের সঙ্গে যত্ন করিতেন তাহা আত্মীয়দের কাছ হইতেও পাওয়া দলভ। এই পরিবারে বাস করিয়া একটি জিনিস আমি লক্ষ্য করিয়াছি—মানুষের প্রকৃতি সব জায়গাতেই সমান। আমরা বলিয়া থাকি এবং আমিও তাহা বিশ্বাস করিতাম যে, আমাদের দেশে পতিভক্তির একটি বিশিষ্টতা আছে, য়রোপে তাহা নাই। কিন্তু আমাদের দেশের সাধনী গহিণীর সঙ্গে মিসেস সকটের আমি তো বিশেষ পার্থক্য দেখি নাই। সবামীর সেবায় তাহার সমস্ত মন ব্যাপত ছিল। মধ্যবিত্ত গহপথঘরে চাকরবাকরদের উপসর্গ নাই, প্রায় সব কাজই নিজের হাতে করিতে হয়, এইজন্য স্বামীর প্রত্যেক ছোটোখাটো