পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৫২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Հ8 ծ সংকলন কাজটিও মিসেস সকট নিজের হাতে করিতেন। সন্ধ্যার সময় স্বামী কাজ করিয়া ঘরে ফিরিবেন, তাহার পবে আগমনের ধারে তিনি স্বামীর আরামকেদারা ও তাঁহার পশমের জন্তাজোড়াটি স্বহস্তে গছাইয়া রাখতেন। ডাক্তার সকটের কী ভালো লাগে আর না লাগে, কোন ব্যবহার তাঁহার কাছে প্রিয় বা অপ্রিয়, সে কথা মহেতের জন্যও তাঁহার সত্ৰী ভুলিতেন না। প্রাতঃকালে একজনমাত্র দাসীকে লইয়া নিজে উপরের তলা হইতে নীচের রান্নাঘর, সিড়ি এবং দরজার গায়ের পিতলের কাজগুলিকে পর্যন্ত, ধইয়া মাজিয়া তকতকে ঝকঝকে করিয়া রাখিয়া দিতেন। ইহার পরে লোকলৌকিকতার নানা কতব্য তো আছেই। গহপথালির সমস্ত কাজ সারিয়া সন্ধ্যার সময় আমাদের পড়াশনা গানবাজনায় তিনি সৃপণ যোগ দিতেন; অবকাশের কালে আমোদপ্রমোদকে জমাইয়া তোলা, সেটাও গহিণীর কতব্যেরই অঙ্গ। কয়েক মাস এখানে কাটিয়া গেল। মেজদাদাদের দেশে ফিরিবার সময় উপসিথত হইল। পিতা লিখিয়া পাঠাইলেন আমাকেও তাঁহাদের সঙ্গে ফিরিতে হইবে। সে প্রস্তাবে আমি খুশি হইয়া উঠিলাম। দেশের আলোক, দেশের আকাশ আমাকে ভিতরে ভিতরে ডাক দিতেছিল। বিদায়গ্রহণকালে মিসেস স্কট আমার দুই হাত ধরিয়া কাদিয়া কহিলেন, এমন করিয়াই যদি চলিয়া যাইবে তবে এত অলপদিনের জন্য তুমি কেন এখানে আসিলে। লণ্ডনে এই গাহটি এখন আর নাই; এই ডাক্তারপরিবারের কেহ-বা পরলোকে, কেহ-বা ইহলোকে কে কোথায় চলিয়া গিয়াছেন তাহার কোনো সংবাদই জানি না, কিন্তু সেই গহটি আমার মনের মধ্যে চিরপ্রতিষ্ঠিত হইয়া আছে। সন্ধ্যাসংগীত এক সময়ে জ্যোতিদাদারা দর দেশে ভ্রমণ করিতে গিয়াছিলেন, তেতলার ছাদের ঘরগুলি শান্য ছিল। সেই সময় আমি সেই ছাদ ও ঘর অধিকার করিয়া নিজন দিনগুলি যাপন করিতাম। এইরপে যখন আপন মনে একা ছিলাম তখন, জানি না কেমন করিয়া, কাব্যরচনার যে সংস্কারের মধ্যে বেটিত ছিলাম সেটা খসিয়া গেল। দটোএকটা কবিতা লিখিতেই মনের মধ্যে ভারি একটা আনন্দের আবেগ আসিল। আমার সমস্ত অন্তঃকরণ বলিয়া উঠিল—বাঁচিয়া গেলাম। যাহা লিখিতেছি, এ দেখিতেছি সম্পণে আমারই। এই স্বাধীনতার প্রথম আনন্দের বেগে ছন্দোবন্ধকে আমি একেবারেই খাতির করা ছাড়িয়া দিলাম। নদী যেমন কাটা খালের মতো সিধা চলে না, আমার ছন্দ তেমনি অকিয়া বকিয়া নানা