পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৫৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


«δ σ' সংকলন আভাস পাওয়া গেছে; আকাশে কান পাতিয়া তাহার কণ্ঠস্বর কখনো-বা শনিয়াছি। সেই বিশ্বব্রহমান্ডের বিশ্ববিমোহিনী বিদেশিনীর বারে আমার গানের সরে আমাকে আনিয়া উপস্থিত করিল এবং আমি কহিলাম : ভুবন ভ্ৰমিয়া শেষে এসেছি তোমারি দেশে, আমি অতিথি তোমারি বারে, ওগো বিদেশিনী। ইহার অনেকদিন পরে একদিন বোলপরের রাস্তা দিয়া কে গাহিয়া যাইতেছিল— খাঁচার মাঝে অচিন পাখি কমনে আসে যায়, ধরতে পারলে মনোবেড়ি দিতেম পাখির পায়। দেখিলাম, বাউলের গানও ঠিক ঐ একই কথা বলিতেছে। মাঝে মাঝে বদ্ধ খাঁচার মধ্যে আসিয়া অচিন পাখি বন্ধনহীন অচেনার কথা বলিয়া যায়, মন তাহাকে চিরন্তন করিয়া ধরিয়া রাখিতে চায় কিন্তু পারে না। এই অচিন পাখির নিঃশব্দ যাওয়া-আসার খবর গানের সরে ছাড়া আর কে দিতে পারে। গওগাতীর তখন জ্যোতিদাদা চন্দননগরে গংগাধারের বাগানে বাস করিতেছিলেন, আমি তাঁহাদের আশ্রয় গ্রহণ করিলাম। আবার সেই গঙ্গা। সেই আলস্যে আনন্দে অনিবাচনীয়, বিষাদে ও ব্যাকুলতায় জড়িত, নিগধ শ্যামল নদীতীরের সেই কলধানিকরণ দিনরাত্রি। এইখানেই আমার পথান, এইখানেই আমার মাতৃহস্তের অন্নপরিবেশন হইয়া থাকে। আমার পক্ষে বাংলাদেশের এই আকাশ-ভরা আলো, দক্ষিণের বাতাস, এই গঙ্গার প্রবাহ, এই রাজকীয় আলস্য, এই আকাশের নীল ও পথিবীর সবজের মাঝখানকার দিগন্তপ্রসারিত উদার অবকাশের মধ্যে সমস্ত শরীর মন ছাড়িয়া দিয়া আত্মসমপণ—তৃষ্ণার জল ও ক্ষুধার খাদ্যের মতোই অত্যাবশ্যক ছিল। সে তো খুব বেশি দিনের কথা নহে, তব ইতিমধ্যেই সময়ের অনেক পরিবতন হইয়া গিয়াছে। আমাদের তরচ্ছোয়াপ্রচ্ছন্ন গঙ্গাতটের নিভৃত নীড়গুলির মধ্যে কলকারখানা উধৰ ফণা সাপের মতো প্রবেশ করিয়া সোঁ সোঁ শব্দে কালো নিশবাস ফ:সিতেছে। এখন খরমধ্যাহ্নে আমাদের মনের মধ্যেও বাংলাদেশের প্রশস্ত নিধচ্ছায়া সংকীর্ণতম হইয়া আসিয়াছে। এখন দেশের সবারই অনবসর আপন সহস্র বাহ প্রসারিত