পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৫৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


জীবনস্মতি ᎦᎸSᎼ করিয়া ঢকিয়া পড়িয়াছে। হয়তো সে ভালোই, কিন্তু নিরবচ্ছিন্ন ভালো এমন কথাও জোর করিয়া বলিতে পারি না। আমার গঙ্গাতীরের সেই সন্দর দিনগুলি গঙ্গার জলে উৎসগ করা পণবিকশিত পদ্মফলের মতো একটি-একটি করিয়া ভাসিয়া যাইতে লাগিল। কখনো-বা ঘনঘোর বর্ষার দিনে হামোনিয়ম-যন্ত্র-যোগে বিদ্যাপতির ভরা বাদর মাহ ভাদর পদটিতে মনের মতো সর বসাইয়া বর্ষার রাগিণী গাহিতে গাহিতে ব্যষ্টিপাত-মুখরিত জলধারাচ্ছন্ন মধ্যাহ্ন খেপার মতো কাটাইয়া দিতাম; কখনো-বা সন্যাস্তের সময় আমরা নৌকা লইয়া বাহির হইয়া পড়িতাম, জ্যোতিদাদা বেহালা বাজাইতেন, আমি গান গাহিতাম; পরবী রাগিণী হইতে আরম্ভ করিয়া যখন বেহাগে গিয়া পোছিতাম তখন পশ্চিম-তটের আকাশে সোনার খেলনার কারখানা একেবারে নিঃশেষে দেউলে হইয়া গিয়া পববনান্ত হইতে চাঁদ উঠিয়া আসিত। আমরা যখন বাগানে ফিরিয়া আসিয়া নদীতীরের ছাদটার উপরে বিছানা করিয়া বসিতাম তখন জলে পথলে শত্র শান্তি, নদীতে নৌকা প্রায় নাই, তীরের বনরেখা অন্ধকারে নিবিড়, নদীর তরঙ্গহীন প্রবাহের উপর আলো ঝিকমিক করিতেছে। ঘাটের উপরেই বৈঠকখানাঘরের শাসিগুলিতে রঙিন-ছবি-ওয়ালা কাচ বসানো ছিল। একটি ছবি ছিল, নিবিড় পল্লবে বেষ্টিত গাছের শাখায় একটি দোলা, সেই দোলায় রৌদ্রচ্ছায়াখচিত নিভৃত নিকুঞ্জে দজনে দলিতেছে; আর একটি ছবি ছিল, কোনো দগপ্রাসাদের সিড়ি বাহিয়া উৎসববেশে-সজিত নরনারী কেহ-বা উঠিতেছে, কেহ-বা নামিতেছে। শাসির উপরে আলো পড়িত এবং এই ছবিগলি বড়ো উজ্জল হইয়া দেখা দিত। এই দুটি ছবি সেই গঙ্গাতীরের আকাশকে যেন ছটির সরে ভরিয়া তুলিত। কোন দরদেশের কোন দরকালের উৎসব আপনার শব্দহীন কথাকে আলোর মধ্যে ঝলমল করিয়া মেলিয়া দিত এবং কোথাকার কোন-একটি চিরনিভৃত ছায়ায় যুগল দোলনের রসমাধযে নদীতীরের বনশ্রেণীর মধ্যে একটি অপরিসফট গল্পেরু বেদনা সঞ্চার করিয়া দিত। প্রভাত সংগীত এইরপে গংগাতীরে কিছুকাল কাটিয়া গেলে জ্যোতিদাদা কিছুদিনের জন্য চৌরঙ্গি-জাদুঘরের নিকট দশ নম্বর সদরসীটে বাস করিতেন। আমি তাহার সঙ্গে ছিলাম। এখানেও একটু-একটা করিয়া বৌঠাকুরানীর হাট ও একটি-একটি করিয়া সন্ধ্যাসংগীত লিখিতেছি, এমন সময়ে আমার মধ্যে