পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৫৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


জীবনস্মতি ՀձՏ হৃদয় আজি মোর কেমনে গেল খলি, জগৎ আসি সেথা করিছে কোলাকুলি। ইহা কবিকল্পনার অত্যুক্তি নহে। বস্তুত, যাহা অনুভব করিয়াছিলাম তাহা প্রকাশ করিবার শক্তি আমার ছিল না। রাজেন্দ্রলাল মিত্র রাজেন্দ্রলাল মিত্র সব্যসাচী ছিলেন। এ পযর্ণত বাংলাদেশে অনেক বড়ো বড়ো সাহিত্যিকের সঙ্গে আমার আলাপ হইয়াছে, কিন্তু রাজেন্দ্রলালের সমতি আমার মনে যেমন উত্তজবল হইয়া বিরাজ করিতেছে, এমন আর কাহারো নহে। মানিকতলার বাগানে যেখানে কোট অফ ওয়ার্ডস ছিল সেখানে আমি যখন-তখন তাঁহার সঙ্গে দেখা করিতে যাইতাম। আমি সকালে যাইতাম, দেখিতাম তিনি লেখাপড়ার কাজে নিযন্তে আছেন। আমাকে দেখিবামাত্র তিনি কাজ রাখিয়া দিয়া কথা আরম্ভ করিয়া দিতেন। সকলেই জানেন, তিনি কানে কম শনিতেন। এইজন্য পারৎপক্ষে তিনি আমাকে প্রশ্ন করিবার অবকাশ দিতেন না। কোনো-একটা বড়ো প্রসঙ্গ তুলিয়া তিনি নিজেই কথা কহিয়া যাইতেন। তাঁহার মুখে সেই কথা শুনিবার জন্যই আমি তাঁহার কাছে যাইতাম। আর-কাহারো সঙ্গে বাক্যালাপে এত নতেন নতেন বিষয়ে এত বেশি করিয়া ভাবিবার জিনিস পাই নাই। আমি মগধ হইয়া তাঁহার আলাপ শুনিতাম। এমন অলপ বিষয় ছিল যে সম্বন্ধে তিনি ভালো করিয়া আলোচনা না করিয়াছিলেন এবং যাহা-কিছল তাঁহার আলোচনার বিষয় ছিল তাহাই তিনি প্রাঞ্জল করিয়া বিবত করিতে পারিতেন। কেবল তিনি মননশীল লেখক ছিলেন, ইহাই তাঁহার প্রধান গৌরব নহে। তাঁহার মতিতেই তাঁহার মনুষ্যত্ব যেন প্রত্যক্ষ হইত। আমার মতো অবাচীনকেও তিনি কিছমাত্র অবজ্ঞা না করিয়া ভারি একটি দক্ষিণ্যের সহিত আমার সঙ্গেও বড়ো বড়ো বিষয়ে আলাপ করিতেন, অথচ তেজস্বিতায় তখনকার দিনে তাঁহার সমকক্ষ কেহই ছিল না। যোধবেশে তাঁহার রন্দ্রমতি" বিপদজনক ছিল। মানিসিপাল-সভায় সেনেট সভায় তাঁহার প্রতিপক্ষ সকলেই তাঁহাকে ভয় করিয়া চলিত। তখনকার দিনে কৃষ্ণদাস পাল ছিলেন কৌশলী, আর রাজেন্দ্রলাল ছিলেন বীৰ্যবান । বড়ো বড়ো মল্লের সঙ্গেও বন্দ্ব যন্ধে কখনো তিনি পরামখে হন নাই ও কখনো তিনি পরাভূত হইতে জানিতেন না। এসিয়াটিক সোসাইটি' -সভার গ্রন্থপ্রকাশ ও পরাতত্ত্ব-আলোচনা ব্যাপারে অনেক সংস্কৃতজ্ঞ পণ্ডিতকে তিনি কাজে খাটাইতেন। আমার মনে আছে, Sa