পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৫৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Հձ Հ সংকলন এই উপলক্ষে তখনকার কালের মহত্ত্ববিদ্বেষী ঈষাপরায়ণ অনেকেই বলিত যেৎ পণ্ডিতেরাই কাজ করে ও তাহার যশের ফল মিত্রমহাশয় ফাঁকি দিয়া ভোগ করিয়া থাকেন। আজিও এরুপ দন্টান্ত কখনো কখনো দেখা যায় যে, যে বঝি অনাবশ্যক শোভামাত্র। কলম বেচারার যদি চেতনা থাকিত তবে লিখিতে লিখিতে নিশ্চয় কোন-একদিন সে মনে করিয়া বসিত, লেখার সমস্ত কাজটাই করি আমি, অথচ আমার মুখেই কেবল কালি পড়ে আর লেখকের খ্যাতিই উক্তজবল হইয়া উঠে। প্রকৃতির প্রতিশোধ কারোয়ারে প্রকৃতির প্রতিশোধ নামক নাট্যকাব্যটি লিখিয়াছিলাম। কাব্যের নায়ক সন্ন্যাসী সমস্ত স্নেহবন্ধন মায়াবন্ধন ছিন্ন করিয়া প্রকৃতির উপরে জয়ী হইয়া একান্ত বিশুদ্ধভাবে অনন্তকে উপলব্ধি করিতে চাহিয়াছিল। অনন্ত । যেন সব-কিছর বাহিরে। অবশেষে একটি বালিকা তাহাকে স্নেহপাশে বন্ধ করিয়া অনন্তের ধ্যান হইতে সংসারের মধ্যে ফিরাইয়া আনে। যখন ফিরিয়া আসিল তখন সন্ন্যাসী ইহাই দেখিল—ক্ষদ্রকে লইয়াই বহৎ, সীমাকে লইয়াই অসীম, প্রেমকে লইয়াই মন্তি। প্রেমের আলো যখনি পাই তখনি যেখানে চোখ মেলি সেখানেই দেখি, সীমার মধ্যেও সীমা নাই। প্রকৃতির প্রতিশোধ -এর মধ্যে এক দিকে যত-সব পথের লোক, যত-সব গ্রামের নরনারী—তাহারা আপনাদের ঘর-গড়া প্রাত্যহিক তুচ্ছতার মধ্যে অচেতনভাবে দিন কাটাইয়া দিতেছে ; আর-এক দিকে সন্ন্যাসী, সে আপনার ঘর-গড়া এক অসীমের মধ্যে কোনোমতে আপনাকে ও সমস্ত-কিছুকে বিলুপ্ত করিয়া দিবার চেষ্টা করিতেছে। প্রেমের সেতুতে যখন এই দুই পক্ষের ভেদ ঘুচিল, গহীর সঙ্গে সন্ন্যাসীর যখন মিলন ঘটিল, তখনি সীমায় অসীমে মিলিত হইয়া সীমার মিথ্যা তুচ্ছতা ও অসীমের মিথ্যা শান্যতা দর হইয়া গেল। আমার তো মনে হয়, আমার কাব্যরচনার এই একটিমাত্র পালা। সে পালার নাম দেওয়া যাইতে পারে, সীমার মধ্যেই অসীমের সহিত মিলন-সাধনের পালা। এই ভাবটাকেই আমার শেষ-বয়সের একটি কবিতার ছত্রে প্রকাশ করিয়াছিলাম : বৈরাগ্যসাধনে মন্তি সে আমার নয়'। কারোয়ার হইতে ফিরিবার সময় জাহাজে প্রকৃতির প্রতিশোধ -এর কয়েকটি গান লিখিয়ছিলাম। বড়ো একটি আনন্দের সঙ্গে প্রথম গানটি জাহাজের ডেকে বসিয়া সরে দিয়া গাহিতে গাহিতে রচনা করিয়াছিলাম :