পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৫৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


জীবনস্মতি ૨ઉ૭ হ্যাদে গো নন্দরাণী, আমাদের শ্যামকে ছেড়ে দাও— আমরা রাখাল বালক গোঠে যাব, আমাদের শ্যামকে দিয়ে যাও । সকালের সর্ষ উঠিয়াছে, ফলে ফটিয়াছে, রাখাল বালকেরা মাঠে যাইতেছে—সেই সযোদয়, সেই ফল ফোটা, সেই মাঠের বিহার তাহারা শান্য রাখিতে চায় না; সেইখানেই তাহারা তাহাদের শ্যামের সঙ্গে মিলিত হইতে চাহিতেছে, সেইখানেই অসীমের সাজ-পরা রুপটি তাহারা দেখিতে চায়; সেইখানেই মাঠে ঘাটে বনে পবতে অসীমের সঙ্গে আনন্দের খেলায় যোগ দিবে বলিয়াই তাহারা বাহির হইয়া পড়িয়াছে—দরে নয়, ঐশ্ববয্যের মধ্যে নয়; তাহাদের উপকরণ অতি সামান্য, পীতধড়া ও বনফলের মালাই তাহাদের সাজের পক্ষে যথেস্ট । ছবি ও গান কারোয়ার হইতে ফিরিবার সময় আমার বয়স ২২ বৎসর। ছবি ও গান’ নাম ধরিয়া আমার যে কবিতাগুলি বাহির হইয়াছিল তাহার অধিকাংশ এই সময়কার লেখা। চৌরঙ্গির নিকটবতী সারকুলের রোডের একটি বাগানবাড়িতে আমরা তখন বাস করিতাম। তাহার দক্ষিণের দিকে মন্সত একটা বসতি ছিল। দেখিতাম। তাহাদের সমস্ত দিনের নানাপ্রকার কাজ, বিশ্রাম, খেলা ও আনাগোনা দেখিতে আমার ভারি ভালো লাগিত, সে যেন আমার কাছে বিচিত্র গল্পের মতো হইত। নানা জিনিসকে দেখিবার যে দটি সেই দস্টি যেন আমাকে পাইয়া বসিয়াছিল। তখন একটি-একটি যেন স্বতন্ত্র ছবিকে কল্পনার আলোকে ও মনের আনন্দ দিয়া ঘিরিয়া লইয়া দেখিতাম; এমনি করিয়া নিজের মনের কল্পনা-পরিবেষ্টিত ছবিগলি গড়িয়া তুলিতে ভারি ভালো লাগিত। সে আরকিছ নয়, এক-একটি পরিসফট চিত্র অকিয়া তুলিবার আকাঙ্ক্ষা, চোখ দিয়া মনের জিনিসকে ও মন দিয়া চোখের দেখাকে দেখিতে পাইবার ইচ্ছা। তুলি দিয়া ছবি আকিতে যদি পারিতাম তবে পটের উপর রেখা ও রঙ দিয়া উতলা মনের দটি ও সন্টিকে বধিয়া রাখিবার চেষ্টা করিতাম, কিন্তু সে উপায় আমার হাতে ছিল না। ছিল কেবল কথা ও ছন্দ ।