পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৬১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বনস্মতি ՏG6: দিলাম। ক্ৰমে অত্যন্ত পথল কয়েকটি ঘটনায় স্পষ্টরপে প্রমাণ হইতে লাগিল, তাহার অন্য যে ব্যাধি থাক, মস্তিকের দাবলতা ছিল না। ইহার পরে পবিজন্মের সন্তানদিগকে বিশিষ্ট প্রমাণ ব্যতীত বিশ্বাস করা আমার পক্ষে কঠিন হইয়া উঠিল; দেখিলাম, এ সম্বন্ধে আমার খ্যাতি ব্যাপ্ত হইয়া পড়িয়াছে। একদিন চিঠি পাইলাম, আমার গতজন্মের একটি কন্যাসন্তান রোগশান্তির জন্য আমার প্রসাদপ্রাথিনী হইয়াছেন। এইখানে শক্ত হইয়া দাঁড় টানিতে হইল, পত্রটিকে লইয়া অনেক দুঃখ পাইয়াছি কিন্তু গতজন্মের কন্যাদায় কোনোমতেই আমি গ্রহণ করিতে সম্মত হইলাম না। বঙ্কিমচন্দ্র এই সময়ে বঙ্কিমবাবর সঙ্গে আমার আলাপের সত্রপাত হয়। তাঁহাকে প্রথম যখন দেখি সে অনেক দিনের কথা। তখন কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরাতন ছাত্রেরা মিলিয়া একটি বার্ষিক সন্মিলনী পথাপন করিয়াছিলেন। চন্দ্রনাথ বস মহাশয় তাহার প্রধান উদ্যোগী ছিলেন। সেই সম্মিলনসভার ভিড়ের মধ্যে ঘুরিতে ঘুরিতে নানা লোকের মধ্যে হঠাৎ এমন একজনকে দেখিলাম যিনি সকলের হইতে স্বতন্ত্র, যাঁহাকে অন্য পাঁচজনের সঙ্গে মিশাইয়া ফেলিবার জো নাই। সেই গেীরকাশিত দীঘকায় পরিষের মখের মধ্যে এমন একটি দ’ত তেজ দেখিলাম যে, তাঁহার পরিচয় জানিবার কৌতুহল সবরণ করিতে পারিলাম না। সেদিনকার এত লোকের মধ্যে কেবলমাত্র তিনি কে, ইহাই জানিবার জন্য প্রশন করিয়াছিলাম। যখন উত্তরে শানিলাম তিনিই বঙ্কিমবাব, তখন বড়ো বিস্ময় জন্মিল। লেখা পড়িয়া এতদিন যাঁহাকে মহৎ বলিয়া জানিতাম, চেহারাতেও তাঁহার বিশিষ্টতার যে এমন একটি নিশ্চিত পরিচয় আছে, সে কথা সেদিন আমার মনে থলে লাগিয়াছিল। বঙ্কিমবাবার খড়ানাসায়, তাঁহার চাপা ঠোঁটে, তাঁহার তীক্ষা দটিতে ভারি একটা প্রবলতার লক্ষণ ছিল। লক্ষের উপর দই হাত বন্ধ করিয়া তিনি যেন সকলের নিকট হইতে পাথক হইয়া চলিতেছিলেন, কাহারো সঙ্গে যেন তাঁর কিছমাত্র গা-ঘেষাঘোষি ছিল না, এইটেই সবাপেক্ষা বেশি করিয়া আমার চোখে ঠেকিয়াছিল। তাঁহার যে কেবলমাত্র বৃদ্ধিশালী মননশীল লেখকের ভাব ছিল তাহা নহে, তাঁহার ললাটে যেন একটি অদশ্য রাজতিলক পরানো ছিল। এইখানে একটি ছোটো ঘটনা ঘটিল, তাতার ছবিটি আমার মনে মাদ্রিত হইয়া গিয়াছে। একটি ঘরে একজন সংস্কৃতজ্ঞ পণ্ডিত স্বদেশ সম্বন্ধে তাঁহার