পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৬২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Հձ ծ সংকলন কয়েকটি স্বরচিত শেলাক পড়িয়া শ্রোতাদের কাছে তাহার বাংলা ব্যাখ্যা করিতেছিলেন। বঙ্কিমবাব ঘরে ঢাকিয়া এক প্রান্তে দাঁড়াইলেন। পণ্ডিতের কবিতার এক পথলে, অশ্লীল নহে, কিন্তু ইতর একটি উপমা ছিল। পণ্ডিতমহাশয় যেমন সেটিকে ব্যাখ্যা করিতে আরম্ভ করিলেন অমনি বঙ্কিমবাব হাত দিয়া মুখ চাপিয়া তাড়াতাড়ি সে ঘর হইতে বাহির হইয়া গেলেন। দরজার কাছ হইতে তাঁহার সেই দৌড়িয়া পালানোর দশ্যটা যেন আমি চোখে দেখিতে পাইতেছি। আমার অন্য কোনো প্রবন্ধে আমি বলিয়াছি, রমেশ দত্ত মহাশয়ের জ্যেষ্ঠা কন্যার বিবাহসভার বারের কাছে বঙ্কিমবাব দাঁড়াইয়া ছিলেন; রমেশবাব বঙ্কিমবাবর গলায় মালা পরাইতে উদ্যত হইয়াছেন, এমন সময়ে আমি সেখানে উপস্থিত হইলাম। বঙ্কিমবাব তাড়াতাড়ি সে মালা আমার গলায় দিয়া বলিলেন, এ মালা ইহারই প্রাপ্য—রমেশ, তুমি সন্ধ্যাসংগীত পড়িয়াছ ? তিনি বলিলেন, না। তখন বঙ্কিমবাব সন্ধ্যাসংগীতের কোনো কবিতা সম্বন্ধে যে মত ব্যক্ত করিলেন তাহাতে আমি পরস্কৃত হইয়াছিলাম। জাহাজের খোল কাগজে কী-একটা বিজ্ঞাপন দেখিয়া একদিন মধ্যাহ্নে জ্যোতিদাদা নিলামে গিয়া ফিরিয়া আসিয়া খবর দিলেন যে, তিনি সাত হাজার টাকা দিয়া একটা জাহাজের খোল কিনিয়াছেন। এখন ইহার উপরে এঞ্জিন জড়িয়া কামরা তৈরি করিয়া একটা পরা জাহাজ নিমাণ করিতে হইবে। দেশের লোকেরা কলম চালায়, রসনা চালায়, কিন্তু জাহাজ চালায় না, বোধ করি এই ক্ষোভ তাঁহার মনে ছিল। দেশে দেশালাই কাঠি জালাইবার জন্য তিনি একদিন চেস্টা করিয়াছিলেন, দেশালাই কাঠি অনেক ঘষণেও জলে নাই; দেশে তাঁতের কল চালাইবার জন্যও তাঁহার উৎসাহ ছিল, কিন্তু সেই তাঁতের কল একটিমাত্র গামছা প্রসব করিয়া তাহার পর হইতে স্তব্ধ হইয়া আছে। তাহার পরে সবদেশী চেষ্টায় জাহাজ চালাইবার জন্য তিনি হঠাৎ একটা শান্য খোল কিনিলেন, সে খোল একদা ভরতি হইয়া উঠিল, শ্ধ কেবল এঞ্জিনে এবং কামরায় নহে, ঋণে এবং সবনাশে। কিন্তু তব এ কথা মনে রাখিতে হইবে, এই-সকল চেস্টার ক্ষতি যাহা সে একলা তিনিই স্বীকার করিয়াছেন, আর ইহার লাভ যাহা তাহা নিশ্চয়ই এখনো তাঁহার দেশের খাতায় জমা হইয়া আছে। পথিবীতে এইরূপ বেহিসাব অব্যবসায়ী লোকেরাই দেশের কম ক্ষেত্রের উপর দিয়া বারবার নিম্ফল অধ্যবসায়ের বন্যা